যাত্রী চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ঢাকা–বরিশাল আকাশপথে একের পর এক ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়ায় চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিয়মিত যাত্রীরা। একসময় এই রুটে প্রতিদিন আটটি পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল করলেও বর্তমানে সপ্তাহে মাত্র দুই দিন ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। ফলে স্বল্প সময়ে যাতায়াতের সুযোগ হারিয়ে বাধ্য হয়ে যাত্রীদের সড়কপথে দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর ভ্রমণ করতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কেবল বাংলাদেশ বিমান সপ্তাহের শুক্রবার ও রোববার দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। যাত্রী চাহিদার তুলনায় যা একেবারেই অপ্রতুল। এর আগে বৃহস্পতিবার একটি ফ্লাইট চালু থাকলেও এয়ারক্রাফট সংকটের কারণে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি উন্নতি হলে আগামী ফেব্রুয়ারিতে বৃহস্পতিবারের ফ্লাইটটি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্র।
বরিশাল বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, পদ্মা সেতু চালুর আগে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস প্রতিদিন চারটি, বাংলাদেশ বিমান ও নভোএয়ার দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করত। পরবর্তীতে যাত্রী সংকটের অজুহাতে প্রথমে নভোএয়ার এবং পরে ইউএস-বাংলা তাদের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। সর্বশেষ গত ২৫ জুলাই ২০২৫ থেকে সাময়িকভাবে এই রুটে ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বরিশাল ও পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার সাথে আকাশপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ৮ আগস্ট ২০২৫ থেকে সপ্তাহে দুই দিন ৭৪ আসনের ‘ড্যাশ ৮-কিউ৪০০’ মডেলের উড়োজাহাজ দিয়ে পুনরায় ফ্লাইট চালু করা হয়।
নিয়মিত যাত্রী শফিকুল ইসলাম ও ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম জানান, ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রী থাকলেও লোকসানের অজুহাতে ফ্লাইট বন্ধ রাখাটা অযৌক্তিক। এতে তাদের মূল্যবান সময় ও কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই রুটে যাত্রী চাপ আরও বাড়বে, তাই দ্রুত প্রতিদিনের ফ্লাইট চালুর দাবি জানান তারা।
বরিশাল বিমানবন্দরে কর্মরত বাংলাদেশ এয়ারলাইনস গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রান্ত খান বলেন, “বর্তমানে প্রতিটি ফ্লাইট ৭০–৮০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে চলছে। যাত্রী সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।” নিরাপত্তা সহকারী মনমত সরকার মনে করেন, সুবিধাজনক শিডিউল করা গেলে যাত্রী সংখ্যা আরও বাড়বে। বরিশালের ট্রাভেলস এজেন্সিগুলোও বলছে, রোববার সকালে এবং বৃহস্পতিবার বিকেলে ফ্লাইট দিলে যাত্রী সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে।
বরিশাল বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার জানান, ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রী সংখ্যা সন্তোষজনক। তবে ফ্লাইট বাড়ানোর বিষয়টি নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। এ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ রয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments