গোবিন্দগঞ্জে গ্রেপ্তার আতঙ্কে আত্মগোপনে চেয়ারম্যান: সেবা বঞ্চিত সাধারণ মানুষ
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ আলম মন্ডল গ্রেপ্তার আতঙ্কে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি পরিষদে আসা বন্ধ করে দেওয়ায় থমকে গেছে নাগরিক সেবা।
চেয়ারম্যান মাসুদ আলম মন্ডল উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি আড়ালে চলে যান। এর মধ্যে কয়েকবার গ্রেপ্তার হলেও বর্তমানে পুনরায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে তিনি কার্যালয়ে আসা বন্ধ রেখেছেন। এতে জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু সনদ, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ ও ট্রেড লাইসেন্সসহ জরুরি কাগজপত্রের জন্য দিনের পর দিন ঘুরেও কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ।
সরেজমিনে তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা ঝুলছে। বারান্দায় দু-একজন গ্রাম পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকলেও সেবাপ্রত্যাশীদের ভিড় ছিল লক্ষ্য করার মতো।
উত্তরপাড়া গ্রামের মকবুল হোসেন জানান, এক মাস ধরে জন্ম নিবন্ধনের জন্য ঘুরছেন তিনি, কিন্তু চেয়ারম্যান না থাকায় কোনো কাজ হচ্ছে না। একই অভিযোগ করেন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আলম মিয়া ও গৃহিণী পারভীন বেগম। তারা জানান, একটি সইয়ের অভাবে তাদের জরুরি কাজগুলো আটকে আছে।
ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মাসুদ রহমান জানান, ‘চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন পরিষদে না আসায় গ্রাম আদালত, মাসিক সমন্বয় সভাসহ সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। নাগরিক সেবা নিতে এসে মানুষ প্রতিদিন ক্ষোভ প্রকাশ করে ফিরে যাচ্ছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মাসুদ আলম মন্ডল মোবাইল ফোনে বলেন, ‘বর্তমানে সময় খারাপ যাচ্ছে। কয়েকজন মেম্বার আমার পেছনে লেগেছে। সময় হলে সবকিছুর জবাব দেবো।’
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, ‘তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির বিষয়টি আমরা জেনেছি। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments