Image description

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বিঝারী পঞ্চপল্লী গুরুরাম উচ্চ বিদ্যালয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক ব্যানার না টাঙানোর অভিযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। গত ১২ জানুয়ারি সকালে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সালাম ঢালী ৫-৬ জন সঙ্গীসহ প্রধান শিক্ষক গৌতম চন্দ্র দাসের কক্ষে প্রবেশ করেন। তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে বিদ্যালয়ে কেন শোক ব্যানার টাঙানো হয়নি, তা জানতে চান। প্রধান শিক্ষক জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তিন দিনের শোক পালন ও পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সালাম ঢালী প্রধান শিক্ষককে ধাক্কা দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে উপস্থিত কয়েকজনের প্রতিবাদের মুখে তিনি প্রধান শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চান।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য তুহিন ফরাজী বলেন, "সালাম ঢালীসহ কয়েকজন এসে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি করেন। আমি সাথে সাথে এর প্রতিবাদ করেছি।"

প্রধান শিক্ষক গৌতম চন্দ্র দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "সালাম ঢালী শোক ব্যানার না টাঙানোর বিষয়ে কৈফিয়ত চেয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। তবে পরবর্তীতে তিনি দুইবার আমার কাছে দুঃখ প্রকাশ (সরি বলা) করায় বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে। আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনেই শোক পালন করেছি।"

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সালাম ঢালী বলেন, "আমি কেন ব্যানার টাঙানো হয়নি তা জানতে চেয়েছিলাম এবং ক্ষুব্ধ হয়ে কথা বলেছি। কিন্তু গায়ে হাত দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।"

নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহাম্মেদ রয়েল মাঝি জানান, প্রধান শিক্ষকের সাথে তর্কাতর্কির বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে দল এ ধরনের আচরণ সমর্থন করে না।

এ বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, "এখনও কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাইনি। আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে প্রধান শিক্ষকের উচিত ছিল বিষয়টি আমাকে জানানো। আমি এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর