গাজীপুরের শ্রীপুরে নারীর গোসলের ভিডিও ধারণের অভিযোগ তুলে সালিশ বৈঠকে মো. নুরুজ্জামান (৩৫) নামের এক যুবককে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের রঙিলা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মো. নুরুজ্জামান ময়মনসিংহের ফুলপুরের সাইল্লাবাউলা গ্রামের মোহাম্মদ জাহের খানের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে রঙিলা বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাশের কক্ষে বসবাসরত এক নারীর গোসলের ভিডিও ধারণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই নারী গোসল করার সময় বাথরুমের দেয়ালের ওপর একটি মোবাইল ফোন দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে আশপাশের ভাড়াটিয়া ও স্থানীয় লোকজন জড়ো হন। পরে ওই নারী অভিযোগ তুলে ধরলে নুরুজ্জামানকে ঘরের ভেতরে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সানোয়ার হোসেন জানান, নুরুজ্জামান জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ভিডিও ধারণের বিষয়টি স্বীকার করেন। এরপর বাড়ির কেয়ারটেকারসহ স্থানীয় কয়েকজন সালিশ বৈঠকের আয়োজন করে। একপর্যায়ে উত্তেজিত কয়েকজন তাকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। পরে সবাই ঘর থেকে বের হয়ে দরজায় তালা লাগিয়ে চলে যায়।
এদিকে রাতে অন্য ভাড়াটিয়ারা ঘরের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে নুরুজ্জামানকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকালে তার মাথা ও গলায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুরো বাথরুমজুড়ে রক্তের দাগ ছিল।
ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, আমি গোসল করতে গিয়ে দেয়ালের ওপর মোবাইল দেখতে পেয়ে চিৎকার দেই। লোকজন এলে সব খুলে বলি। এরপর তারা নুরুজ্জামানকে আটকে রাখে। পরে আমাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর কীভাবে সে মারা গেছে, কারা মারধর করেছে—এসব আমি জানি না।
নিহতের ভাই কামাল হোসেন বলেন, আমার ভাই ১৩ বছর ধরে এই এলাকায় থাকেন। হঠাৎ করে ভাই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন, এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। এসে দেখি ভাইকে পিটিয়ে মেরে ফেলছে। ভাই অপরাধ করলেও কি এভাবে মেরে ফেলতে পারে? তার মাথা ও গলায় মারাত্মক আঘাত ছিল। এটা পরিকল্পিত হত্যা।
কালিয়াকৈর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম জানান, সালিশ বৈঠকের নামে কয়েকজন মিলে নুরুজ্জামানকে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যা করেছে এমন অভিযোগে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে সেখান থেকে নিহতের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে শ্রীপুর থানা-পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, হত্যার পর অভিযুক্তরা ঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়ে গেছে। যে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে সেটি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে নারীসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।




Comments