চিকিৎসায় অবহেলা: খানসামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনা চিকিৎসায় যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের চরম অবহেলার কারণে হুমায়ুন কবির (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালে আনার পর দীর্ঘ এক ঘণ্টা কোনো চিকিৎসক বা নার্স রোগীকে দেখতে না আসায় বিনা চিকিৎসায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করছেন নিহতের স্বজনরা।
নিহত হুমায়ুন কবির উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের মৃত আসরাফ আলীর ছেলে।
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে হুমায়ুন কবিরকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, সেখানে দায়িত্বরত উপসহকারী মেডিকেল অফিসার (সেকমো) ডা. মাহাফুজ ইসলাম কোনো সিনিয়র চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই রোগীকে তড়িঘড়ি করে ওয়ার্ডে ভর্তি করান। কিন্তু ভর্তির পর দীর্ঘ এক ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও কোনো চিকিৎসক বা নার্স তাঁকে দেখতে যাননি। এরই মধ্যে কোনো চিকিৎসা না পেয়ে ধুঁকতে ধুঁকতে হুমায়ুন কবিরের মৃত্যু হয়।
নিহতের ছোট ভাই হারুনুর রসিদ আক্ষেপ করে বলেন, "আমার ভাইয়ের অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। অথচ সিনিয়র ডাক্তারকে না জানিয়ে সেকমো মাহাফুজ নিজেই ভর্তি করালেন। ওয়ার্ডে নেওয়ার পর এক ঘণ্টার বেশি সময় আমরা ডাক্তার-নার্স খুঁজেছি, কেউ আসেনি। বিনা চিকিৎসায় চোখের সামনে আমার ভাই মারা গেল।"
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. প্রিয়ম তালুকদার বলেন, "সত্যি বলতে ওই রোগীকে এই হাসপাতালে ভর্তির কোনো সুযোগ ছিল না। সেকমো মাহাফুজ ভুলভাবে রোগীকে ভর্তি করিয়েছেন এবং আমাকে কিছুই জানাননি। যার ফলে আমি চিকিৎসা দিতে পারিনি। এমন ঘটনায় আমি নিজেও মর্মাহত।"
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, "রোগীর অবস্থা অনুযায়ী তাঁকে দ্রুত রেফার করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ডা. মাহাফুজ ভুলবশত ভর্তি করেছেন এবং কোনো মেডিকেল অফিসারকে জানাননি। রোগীর স্বজনরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এ বিষয়ে খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান সরকার বলেন, "চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যুর বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বাছেত সরদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অভিযোগ সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় হাসপাতাল এলাকায় নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা এই মৃত্যুর জন্য দায়ী স্বাস্থ্যকর্মীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments