Image description

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার চেলের ঘাট এলাকায় ১৭৩ একর জমির ওপর নির্মিতব্য ‘অলিম্পিক ভিলেজ’ উদ্বোধন করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। আগামী দিনে এই অলিম্পিক কমপ্লেক্স আন্তর্জাতিকমানের ভেন্যুতে রূপান্তরিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে একটি অত্যাধুনিক অলিম্পিক কমপ্লেক্সের স্বপ্ন দেখে আসছি। বিভিন্ন স্থানে জায়গা দেখা হলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। অবশেষে ত্রিশালের স্পোর্টস স্কুল এলাকায় আমরা এই ভিলেজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সকল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যাবে এবং দেশি ক্রীড়াবিদরাও নিয়মিত প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন।”

প্রকল্পের বিশালতা ও অর্থের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, “আমাদের স্বপ্ন অনেক বড়। এক মাসের মধ্যে জমি কিনে আমরা এর সূচনা করেছি। এজন্য ২৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড এবং ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসিকে ধন্যবাদ জানাই। তবে এই বিশাল অবকাঠামো নির্মাণে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। সরকার, বিভিন্ন ব্যাংক এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে অর্থের জোগান দিতে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন কাজ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড ও আর্কিটেক্টরা কাজের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।”

তরুণ প্রজন্মের ওপর খেলাধুলার প্রভাব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “যুব সমাজকে খেলাধুলার সাথে সম্পৃক্ত করতে পারলে তাদের চরিত্র গঠন হবে। একজন ক্রীড়াবিদ কখনো নেশায় আসক্ত হয় না বা খারাপ কাজে লিপ্ত হয় না। আমাদের সুযোগ-সুবিধার অভাব থাকলেও এই কমপ্লেক্স তৈরি হলে সেই পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এখানে আবাসিক ও প্রশিক্ষণ সুবিধার পাশাপাশি যাতায়াতের জন্য শাটল ট্রেনের ব্যবস্থা করারও পরিকল্পনা রয়েছে। এটি ভবিষ্যতে এশিয়ান গেমসের মতো বড় আয়োজনের ভেন্যু হিসেবেও পরিচিতি পাবে।”

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুল আলম, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব জোবায়দুর রহমান রানা এবং অলিম্পিক কমপ্লেক্স প্রকল্পের পরিচালক কর্নেল কুতুব প্রমুখ। এ সময় প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রদর্শন করা হয়।

এর আগে সকাল ১০টায় সেনাপ্রধান হেলিকপ্টারযোগে ময়মনসিংহ নগরীর সার্কিট হাউস মাঠে অবতরণ করেন। সেখানে তিনি বিভাগীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে নির্বাচন বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এরপর তিনি ত্রিশালের সেনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গিয়ে সেনাসদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর