মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ভারতীয় মদের চালান উদ্ধারের অভিযানে মাদক পাচারকারীদের হামলার মুখে পড়েছে বিজিবি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও আত্মরক্ষায় বিজিবি ৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করেছে। এই ঘটনায় মোট ১৪৩ বোতল ভারতীয় অফিসার চয়েজ মদ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত পৌনে নয়টার দিকে উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ইসলামপুর গ্রামের হারিছ আলীর বাড়িতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিজিবি বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের করেছে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি লাতু ও নয়াগ্রাম বিওপির একটি বিশেষ টহল দল শনিবার রাতে ইসলামপুর গ্রামের হারিছ আলীর বাড়ির অদূরে অবস্থান নেয়। রাত পৌনে নয়টার দিকে মাদকের চালানসহ এক ব্যক্তিকে ঘরে ঢুকতে দেখে বিজিবি সদস্যরা সেখানে অভিযান চালায়। এসময় হারিছ আলীর ঘর থেকে ৯৫ বোতল ভারতীয় অফিসার চয়েজ মদ জব্দ করা হয়।
মদ জব্দের পরপরই মাদক কারবারিরা ও তাদের আত্মীয়-স্বজনরা বিজিবিকে লক্ষ্য করে ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে চিৎকার শুরু করে এবং সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। চোরাকারবারিদের ইট-পাটকেলের আঘাতে দুইজন বিজিবি সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিজিবি সদস্যরা ৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আত্মরক্ষা করেন এবং নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিয়ে বাড়িটি নজরদারিতে রাখেন।
খবর পেয়ে রাতেই বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আতাউর রহমান, বিজিবির সহকারী পরিচালক, পুলিশ এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন আহমদ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। রাত ১টার দিকে পুনরায় হারিছ আলীর বাড়িতে যৌথ তল্লাশি চালিয়ে আরও ৪৮ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়। দুই দফায় মোট ১৪৩ বোতল মদ জব্দ করা হয়।
বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আতাউর রহমান বলেন, “মাদকের বড় একটি চালান আসার খবর পেয়ে বিজিবির যৌথ দল অভিযান চালায়। প্রথমে ৯৫ বোতল মদসহ মাদক কারবারিদের হাতেনাতে ধরা হলেও তারা সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায়। পরে অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে পুনরায় অভিযান চালিয়ে আরও ৪৮ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।”
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিজিবি লাতু ক্যাম্পের হাবিলদার মং থোয়াই চিং মারমা বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন। জব্দকৃত মাদক থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments