Image description

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যারা নারীদের অসম্মান করে, মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে, তারা কখনোই দেশপ্রেমিক বা জনদরদি হতে পারে না। 

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনার খালিশপুরস্থ প্রভাতী স্কুলমাঠে আয়োজিত বিএনপির এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দীর্ঘ ২২ বছর পর খুলনায় তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে এদিন সকাল থেকেই জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বেলা ১২টা ২৪ মিনিটে তিনি মঞ্চে উঠলে গগনবিদারি স্লোগানে মুখরিত হয় গোটা এলাকা।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীর অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, দেশের ২০ কোটি মানুষের মধ্যে ১০ কোটিই নারী। এই বিশাল সমাজকে পেছনে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। বেগম খালেদা জিয়া নারীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন যেন তারা স্বাবলম্বী হতে পারে।

একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “একটি দল প্রকাশ্যে নারী নেতৃত্বে অবিশ্বাসের কথা বলছে এবং কর্মজীবী নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছে। যারা ইসলাম কায়েমের কথা বলে তারা ভুলে যাচ্ছে, আমাদের নবী করিম (সা.)-এর সহধর্মিণী হজরত বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। তাই নারীদের কর্মজীবনকে অপমান করার অধিকার কারো নেই।”

মৃতপ্রায় শিল্পনগরী খুলনাকে পুনরায় সচল করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় গেলে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা অঞ্চলকে আবার জীবন্ত শিল্পনগরীতে রূপান্তর করা হবে। প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে এবং কৃষকদের জন্য চালু করা হবে ‘কৃষি কার্ড’।” 

তিনি আরও ঘোষণা করেন, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি বলেন, “বিগত ১৬ বছর এদেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতা রাজপথে রক্ত দিয়ে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। এখন সময় এসেছে অধিকার আদায়ের। আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষে ভোট দিয়ে সেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, আজিজুল বারী হেলালসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। সভায় খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার ১৪টি সংসদীয় আসনের মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে খুলনায় পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়। তারেক রহমানের হেলিকপ্টারটি খুলনার আকাশে দেখা মাত্রই জনতা উল্লাসে ফেটে পড়েন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর