Image description

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বিয়ের স্বীকৃতি না পেয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে লামিয়া আক্তার মীম (২১) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। 

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ময়মনসিংহ-জারিয়া রেলপথের উপজেলার গজন্দর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত লামিয়া গৌরীপুর সরকারি কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং উপজেলার গাভীশিমুল গ্রামের সাদিকুল ইসলামের মেয়ে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গৌরীপুর পৌরসভার ভালুকা মহল্লার আবুল কাসেমের ছেলে রাকিবের (৩০) সঙ্গে লামিয়ার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর তারা গোপনে বিয়ে করেন। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে লামিয়ার পরিবার মেনে নিলেও রাকিবের পরিবার তাকে পুত্রবধূ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে।

নিহত মীমের বড় বোন সামান্তা নাজনীন অভিযোগ করে বলেন, "গত ১৬ সেপ্টেম্বর তারা গোপনে বিয়ে করেছিল। সম্প্রতি আমাদের পরিবার বিয়ের জন্য পাত্র দেখতে চাইলে মীম বিয়ের কথা জানায়। এরপর আমরা রাকিবের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার বাবা আবুল কাসেম মীমকে মেনে নিতে সাফ মানা করে দেন। এমনকি রাকিবের বোন মোবাইলে মীমের সঙ্গে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ আচরণ করেন।"

তিনি আরও জানান, গতকাল রোববার দুপুরে মীমের পরিবার রাকিবের বাড়িতে গেলেও তারা চূড়ান্তভাবে মীমকে প্রত্যাখ্যান করে। এরপর থেকে রাকিবও মীমের ফোন রিসিভ করা বন্ধ করে দেয়। এতে মীম মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। সোমবার ভোরে সবার অগোচরে বাড়ি থেকে বের হয়ে গজন্দর এলাকায় জারিয়াগামী ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। সকালে রেললাইনের পাশে ছিন্নভিন্ন মরদেহ দেখে স্বজনরা তাকে শনাক্ত করেন।

খবর পেয়ে গৌরীপুর রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

গৌরীপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আবুল কালাম বলেন, "প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহ ও বিয়ের স্বীকৃতি না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়মনসিংহে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর