Image description

ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে নবম তলার বাসা থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছে তিন সহোদরা বোন। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে দিল্লির উপকণ্ঠে অবস্থিত ‘ভারত সিটি’ আবাসন কমপ্লেক্সে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত তিন বোন হলেন পাখি (১২), প্রাচী (১৪) ও বিশিকা (১৬)। আত্মহত্যার আগে তারা একটি হাতে লেখা নোট রেখে যায়, যেখানে লেখা ছিল—‘সরি পাপা’ (দুঃখিত বাবা)।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিন বোন অনলাইনে একটি কোরীয় গেমে অতিমাত্রায় আসক্ত ছিল। সম্প্রতি তাদের মা–বাবা মুঠোফোন ব্যবহার কমিয়ে দিলে তারা গেম খেলতে পারছিল না। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, এই বিষয়টি তাদের ওপর গভীর মানসিক প্রভাব ফেলেছিল।

ঘটনার রাতে তিন বোন বাসার বারান্দায় গিয়ে দরজা আটকে দেয় এবং জানালা দিয়ে একে একে নিচে লাফ দেয়। তাদের চিৎকার ও পড়ার শব্দে পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী এবং আবাসন কমপ্লেক্সের নিরাপত্তারক্ষীদের ঘুম ভেঙে যায়। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকলেও ততক্ষণে তারা মারা যায়।

সহকারী পুলিশ কমিশনার অতুল কুমার সিং বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে চেতন কুমারের তিন মেয়ে ভবন থেকে লাফিয়ে প্রাণ হারিয়েছে। বুধবার সকালে তিন কিশোরীর নিথর দেহ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। শোকে ভেঙে পড়েন তাদের মা, ঘটনাস্থলে ভিড় করেন প্রতিবেশীরা।

তদন্তকারীরা একটি পকেট ডায়েরিও উদ্ধার করেছেন, যার আট পাতাজুড়ে তাদের মানসিক অবস্থা, গেমিং অভ্যাস ও মোবাইল ব্যবহারের খুঁটিনাটি বিবরণ লেখা ছিল। নোটে লেখা ছিল—‘এই ডায়েরিতে যা লেখা আছে, সব সত্যি। এখনই পড়ো। আমি সত্যিই দুঃখিত।’

পরিবারের সদস্যরা জানান, তিন বোন কোরীয় সংস্কৃতির প্রতি প্রবলভাবে আকৃষ্ট ছিল এবং নিজেদের কোরীয় নামও ব্যবহার করত। তারা প্রায় সব কাজ একসঙ্গে করত। কোভিড-১৯ মহামারির সময় থেকেই তাদের গেমিং আসক্তি শুরু হয়। দুই বছর আগে তারা স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় বলে জানা গেছে।

সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা নিমিশ প্যাটেল জানান, তদন্তে এখনো নির্দিষ্ট কোনো গেমের নাম শনাক্ত করা যায়নি। তবে সুইসাইড নোট ও অন্যান্য আলামতে কোরীয় সংস্কৃতির প্রভাব স্পষ্ট। কয়েক দিন ধরে মুঠোফোন ব্যবহার বন্ধ থাকাই হয়তো এই চরম সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই