Image description

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “যারা জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করেছে, সাধারণ মানুষের টাকা চুরি করেছে, তাদের কোনোভাবেই শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না। লুণ্ঠিত প্রতিটি টাকার হিসাব নেওয়া হবে।”

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “প্রবাসীরা কেবল রেমিট্যান্স পাঠানোর যন্ত্র নন; তারা আমাদের রাষ্ট্রের গর্ব ও প্রকৃত ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’। কোনো প্রবাসী শ্রমিক বিদেশে কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে তার মরদেহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এবং সরকারি খরচে দেশে আনার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। প্রবাসীদের অধিকার বঞ্চিত রাখা অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে যেভাবে নদী রক্ষার আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা আরও বেগবান করা হবে। দেশের নদ-নদী রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি হাওর অঞ্চলের উন্নয়নে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।

সিলেটের চা শ্রমিকদের মানবেতর জীবনযাপন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “চা বাগানের শ্রমিকরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম অবহেলিত। তাদের সন্তানরা স্বাস্থ্যঝুঁকি ও শিক্ষার অভাব নিয়ে বড় হচ্ছে এবং বাধ্য হয়ে আবার চা বাগানেই কাজ করছে। এই বৃত্ত ভাঙতে হবে। চা শ্রমিকদের সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।”

সিলেটের সন্তান হিসেবে জনগণের কাছে ভোট প্রার্থনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বহু দল ও নেতাকে আপনারা বহুবার সুযোগ দিয়েছেন। এবার একটিবার জামায়াতে ইসলামীকে সুযোগ দিন। আমরা আপনাদের মূল্যবান ভোটের মর্যাদা রক্ষা করব। জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় আমরা ‘চৌকিদারে’র মতো পাহারাদারের ভূমিকা পালন করব।”

জনসভায় ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। ব্যানার-ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখরিত জনসভায় হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর