খুলনা-৬ আসনে ‘পুরাতন দুর্গ’ পুনরুদ্ধারে মরিয়া জামায়াত, প্রথম জয়ের লক্ষ্যে বিএনপি
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, উপকূলীয় জনপদ খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ ততই বাড়ছে। একসময়ের ‘পুরাতন দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত এই আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে, নির্বাচনী সমীকরণে বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার অবস্থানে থেকে প্রথমবার জয়ের স্বাদ নিতে চায় বিএনপি। জাতীয় পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা মাঠে থাকলেও মূল লড়াই এখন বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকালে এক প্রার্থী যেখানে জনসংযোগ করছেন, বিকেলেই সেখানে পাল্টা শোডাউন দিচ্ছেন অন্য প্রার্থী। বিশেষ করে বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পী এবং জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদের প্রচারণায় এলাকা এখন মুখর। বিএনপি প্রার্থী বাপ্পী এ আসনে নতুন মুখ হলেও স্বল্প সময়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করে তুলেছেন। নিয়মিত উঠান বৈঠক ও পথসভার মাধ্যমে তিনি ধানের শীষের পক্ষে সমর্থন আদায় করছেন।
অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ এ এলাকার দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক হিসেবে তাঁর একটি সুসংগঠিত ভোট ব্যাংক রয়েছে। তিনি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন কুল্লাহ-পাইকগাছার জনপদ।
খুলনা-৬ আসনের রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জয়ী হয়েছিলেন। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় এবং জামায়াতের পূর্বের জয়ের ইতিহাস থাকায় ভোটারদের একটি বড় অংশ দাঁড়িপাল্লার দিকে ঝুঁকে পড়ার সম্ভাবনা দেখছেন। তবে বিএনপি এবার কোনোভাবেই হার মানতে নারাজ; তারা চায় নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে আসনটি নিজেদের কবজায় নিতে।
কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বরং টেকসই উন্নয়ন চান নদী অববাহিকার এই মানুষগুলো। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান, উপকূলীয় অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ। বিশেষ করে নির্বাচনের পর নির্বাচিত প্রতিনিধিকে সবসময় এলাকায় পাশে পাওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ভোটাররা।
পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৩১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১২ হাজার ৮৬৯ এবং নারী ২ লাখ ১০ হাজার ৪৬১ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন একজন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি মোট ১৫৫টি কেন্দ্রে এই জনপদের মানুষ তাদের রায় দেবেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments