আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা চার দিনের ছুটি মেলায় নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে কর্মজীবী মানুষ।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাই অংশে ঘরমুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গণপরিবহনের সংকট আর দ্বিগুণ ভাড়ার নৈরাজ্যের কারণে শত শত মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক ও পিকআপে চড়ে গন্তব্যে রওনা হতে দেখা গেছে।
সরেজমিনে ধামরাই থানা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, হাজার হাজার যাত্রী বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত পরিবহন না পেয়ে অনেকে বিকল্প হিসেবে ট্রাক ও পিকআপ বেছে নিচ্ছেন। বাসের সিট না মেলায় অনেকে দাঁড়িয়ে বা ছাদে চড়েও ভ্রমণ করছেন। মহাসড়কের মাঝখানের লেনে দাঁড়িয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ির অপেক্ষায় থাকছেন কর্মজীবীরা, যা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, নির্বাচনের ছুটি আর সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিন সময় পাওয়ায় সবাই একযোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন। এই সুযোগে বাস চালক ও হেল্পাররা দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায় করছে।
সাভার থেকে উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রী সোলাইমান বলেন, "ভাড়া অনেক বেশি এবং যাতায়াতে চরম কষ্ট হচ্ছে। তবে টানা ৪ দিনের ছুটি পাওয়ায় পরিবারের সাথে দেখা হবে এবং নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারব—এই আনন্দ সব কষ্ট ভুলিয়ে দিচ্ছে।"
নির্বাচনী এই আমেজকে অনেকে ঈদের ছুটির সাথে তুলনা করছেন। কষ্টের যাত্রা হলেও সবার চোখেমুখে রয়েছে প্রিয়জনের সাথে মিলিত হওয়া আর ভোটাধিকার প্রয়োগের উচ্ছ্বাস। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অনিরাপদ যানে যাতায়াত রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর তৎপরতা মহাসড়কের এই অংশে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
ধামরাই থানা বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে বাথুলি, কালামপুর ও ধামরাইয়ের প্রতিটি বাস স্টপেজে এখন সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়। গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়নায় যাত্রীরা যেন নিয়ম-শৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করেই বাড়ি ফেরার লড়াইয়ে নেমেছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments