শরীরের শক্তি ফুরিয়েছে অনেক আগেই, অসুস্থতা ও বার্ধক্য কেড়ে নিয়েছে স্বাভাবিক হাঁটাচলার ক্ষমতা। কিন্তু নাগরিক দায়িত্ব পালনের অদম্য ইচ্ছার কাছে হার মেনেছে সব প্রতিকূলতা। রাঙ্গামাটির পাহাড়ঘেরা জনপদে আজ এক পাহারসম দৃঢ়তার নজির স্থাপন করলেন লক্ষ্মী রাণী ত্রিপুরা। আধুনিক কোনো বাহন বা হুইলচেয়ার নয়, একটি সাধারণ কাঠের 'ঠেলা গাড়িতে' চড়ে ভোটকেন্দ্রে এসে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন এই নারী।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাঙ্গামাটি শহরের গর্জনতলী এলাকার বাসিন্দা লক্ষ্মী রাণী ত্রিপুরাকে স্বজনরা ঠেলা গাড়িতে করে কাঁঠালতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। যে গাড়িতে সচরাচর পণ্য আনা-নেওয়া করা হয়, আজ সেই গাড়িটিই তার জন্য হয়ে উঠেছিল গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হওয়ার বাহন।
ভোটকেন্দ্রের জরাজীর্ণ শরীর নিয়ে যখন তিনি কেন্দ্রে পৌঁছান, তখন তার চোখে ছিল অদম্য সংকল্পের ঝিলিক। ভোট প্রদান শেষে আবেগঘন কণ্ঠে লক্ষ্মী রাণী বলেন, "শরীরের কষ্ট বড় নয় বাবা, ভোট দেওয়া তো আমার আমানত, আমার দায়িত্ব। তাই শেষ পর্যন্ত আসতেই হলো।"
শারীরিক অক্ষমতাকে তুচ্ছ করে তার এই কেন্দ্রে আসার দৃশ্য উপস্থিত ভোটার ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। উপস্থিত অনেকেই তার এই দায়িত্ববোধ দেখে শ্রদ্ধায় আপ্লুত হন। স্থানীয়দের মতে, লক্ষ্মী রাণী ত্রিপুরা আজ রাঙ্গামাটির প্রতিটি মানুষের জন্য এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা।
শান্ত পাহাড়ের বুকে লক্ষ্মী রাণীর এই 'ঠেলা গাড়ির যাত্রা' রাঙ্গামাটির নির্বাচনী ইতিহাসে এক অনন্য ও আবেগঘন অধ্যায় হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments