Image description

১লা ফাল্গুনকে বরন আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে যেখানে প্রতি বছরই পর্যটকে পরিপূর্ণ থাকে পটুয়াখালীর পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকত, এবছর সেখানের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। পর্যটকের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় দীর্ঘ ২২ কিলোমিটার সৈকতজুড়ে নেমে এসেছে নিরবতা, নিস্তব্দতা। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বিরাজ করছে এমন অবস্থা। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পর্যটন নির্ভর ব্যবসায়ীরা। প্রত্যাশিত অতিথি না আসায় হোটেল, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য সেবাখাতের অনেক উদ্যোক্তাই পড়েছেন আর্থিক সংকটে।

এদিকে শনিবার সকাল থেকে কিছু সংখ্যক পর্যটক কুয়াকাটা এসেছেন। তারা সমুদ্রের নোনা জলে গাঁ ভাসিয়ে আনন্দ উচ্ছ্বাসে মেতেছেন। আবার কেউ কেউ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখছেন, আবার অনেকে খালি পায়ে সৈকতের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে হেঁটে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করছেন। যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তৎপর রয়েছে ট্যুরিষ্ট পুলিশ।

সৈকতের ছাতা বেঞ্চি ব্যবসায়ী মো. ইয়াসিন বলেন, নির্বাচনের কারনে গত দুই সপ্তাহ যাবৎ কুয়াকাটায় একেবারে পর্যটক নাই বল্লেই চলে।

ঢাকা থেকে আাসা পর্যটক দম্পতি শামীম ও রুবিনা বলেন, নির্বাচনে ভোট দিয়ে কালকে কুয়াকাটায় তাড়াহুড়ো করে আসলাম, ভালোবাসা দিবসের জন্য। এসে দেখি কোন পর্যটক নেই। 

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল অউনার এসোসিয়েশন সভাপতি আবদুল মোতালেব শরীফ জানান, নির্বাচনের কারনে তেমন পর্যটক নেই, রমজানের কারনে সামনে আরও কমে যাবে। এ বছর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় কুয়াকাটা পর্যটন ব্যবসায়ীরা লোকসানের কবলে পড়েছে। আশা করছি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন (টোয়াক) এর প্রতিনিধি আবুল হোসেন রাজু বলেন, নতুন নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশের সব কিছু স্বাভাবিক হবে বলে আমরা আশা করছি। কুয়াকাটার উন্নয়ন ও পর্যটক বান্ধব নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে সদ্য নির্বাচিত সরকারের বিশেষ দৃষ্টি থাকবে বলেও তিনি আশা করেন।

কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, ' পর্যটকদের নিরাপত্তায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি কুয়াকাটা পৌরসভা স্বচেষ্ট আছে।'