Image description

নাটোরের বড়াইগ্রামে নির্বাচন-পরবর্তী বিরোধের জেরে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীরসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে ১২টি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানোর খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ওই এলাকা থেকে চারজনকে আটক করেছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ধানাইদহ গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ৯ জন জামায়াত ও একজন বিএনপির কর্মী বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেলে ধানাইদহ বাজারে জামায়াত কর্মী সাকিব ও সাব্বিরকে মারধর করে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীরা। বিষয়টি মীমাংসার জন্য শনিবার সকালে উভয় পক্ষের একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকালে গ্রাম থেকে উভয় পক্ষের লোকজন বাজারে আসার পথে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষের সময় কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের শব্দও শোনা গেছে।

সংঘর্ষে গুরুতর আহতরা হলেন— নগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর হাসিনুর রহমান, ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আসাব সরকার, জামায়াত কর্মী রফিকুল ইসলাম, সাকিব, সাব্বির, ইব্রাহীম খলিল সৈয়দ, মনির হোসেন, সাইদুল ইসলাম এবং গৃহবধূ নাজমা বেগম। 

আহতদের মধ্যে হাসিনুর রহমানসহ দুইজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

সংঘর্ষ পরবর্তী সময়ে ধানাইদহ গ্রামের সানোয়ার হোসেন, আব্দুস সোবহান, সিরাজুল ইসলামসহ জামায়াত সংশ্লিষ্ট ৯ কর্মীর বাড়ি এবং বাজারে ইব্রাহীম খলিলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।

ঘটনার পর নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচনে বিএনপির বিশাল জয়ের পর তারা দেশ গঠনে মনোযোগ না দিয়ে ভিন্নমতের মানুষের ওপর হামলা-নির্যাতন শুরু করেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’ 

তবে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করা হয়েছে। সহিংসতায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর