মাদারীপুরে মামলার বিরোধকে কেন্দ্র করে সেচপাম্প বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। ফলে তীব্র খরা ও পানির অভাবে প্রায় ৫০ বিঘা জমির বোরো ধানক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ দুধখালি গ্রামের কয়েক ডজন কৃষক। ফসল রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে দক্ষিণ দুধখালি গ্রামের হাওরে গিয়ে দেখা যায়, পানির অভাবে জমিগুলো শুকিয়ে বড় বড় ফাটল তৈরি হয়েছে। সবুজ ধানগাছগুলো লালচে ও ফ্যাকাশে বর্ণ ধারণ করছে। অন্যের জমি লিজ নিয়ে চাষ করা কৃষক নিজাম মুন্সির স্ত্রী সোনিয়া আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, ‘১২-১৩ দিন ধরে পাম্প বন্ধ। পেটে লাথি মারা হয়েছে। এই ধানের ওপরই আমাদের সারা বছরের সংসার চলে। আমরা প্রশাসনের বিচার চাই।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ দুধখালি মুন্সিবাড়ি জামে মসজিদের সংস্কার কাজ নিয়ে স্থানীয় আলমগীর মুন্সির সঙ্গে সিদ্দিক মুন্সি ও কামাল মুন্সিদের মারামারি হয়। এ ঘটনায় ২৫ ফেব্রুয়ারি থানায় মামলা করেন আলমগীর মুন্সি। অভিযোগ উঠেছে, মামলার পর প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে আলমগীরের লোকজন হাওরের সেচপাম্পটি ভেঙে ফেলে। এরপর থেকেই বন্ধ হয়ে যায় সেচ কার্যক্রম।
সেচপাম্প মালিক আকরাম মুন্সি বলেন, ‘পাম্পটি মেরামত করে চালু করার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু একটি পক্ষ আমাকে বাধা দিয়েছে। আমার নিজের চার বিঘা জমির ধানও এখন নষ্ট হওয়ার পথে। এখন এই ধানগাছ গরুর খাবার ছাড়া আর কোনো কাজে আসবে না।’
আরেক কৃষক কামাল মুন্সি জানান, মামলার ভয়ে অনেক কৃষক গ্রামছাড়া থাকায় তারা জমিতে আসতে পারছেন না, আবার পাম্পও মেরামত করতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে বছরে প্রায় দেড় হাজার মণ ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘মামলার কারণে সেচপাম্প বন্ধ করার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে ফসল নষ্ট করার অধিকার কারও নেই। কৃষকদের যাতে ক্ষতি না হয়, সেজন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যারা পাম্প বন্ধ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে মামলার বাদী আলমগীর হোসেন গণমাধ্যমে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বিষয়টি পুলিশ ও আদালত দেখবে বলে জানান।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments