কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিনে স্থবির বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম
বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিনে স্থবির হয়ে পড়েছে নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। এর ফলে পুরো নগরী কার্যত ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল থেকে নগরীর প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার স্তূপে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কর্মবিরতির কারণে বুধবার থেকেই নগরীর সদর রোড, চকবাজার, নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড, সিঅ্যান্ডবি রোড, বটতলা, বগুড়া রোড, কাশিপুর ও রূপাতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় ডাস্টবিন উপচে ময়লা রাস্তায় ছড়িয়ে পড়েছে। আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার পাশে জমে থাকা এসব আবর্জনা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা পথচারী ও স্থানীয়দের জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
নথুল্লাবাদ এলাকার ব্যবসায়ী রাশেদ বলেন, "প্রতিদিন ভোরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ময়লা সরিয়ে নিলেও গত দুই দিন ধরে কোনো কাজ হচ্ছে না। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে।"
জানা গেছে, ফেব্রুয়ারি মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে উৎসব ভাতার দাবিতে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বিসিসির দুই সহস্রাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী কর্মবিরতি শুরু করেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, মাসে ৩০ দিন কাজ করলেও তাদের মাত্র ২২ দিনের হাজিরা দেওয়া হয়। এছাড়া গত বছর বোনাস দেওয়া হলেও এ বছর দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা তাদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। তারা অবিলম্বে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।
সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের সময়ে শ্রম অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যৌথ সিদ্ধান্তে দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকদের বেতন ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। তবে গেজেটে উল্লেখ আছে যে, দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকরা কোনো উৎসব ভাতা পাবেন না। এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই মূলত অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, চলমান সংকট নিরসনে বৃহস্পতিবার কয়েক দফা সভা ডাকা হলেও শ্রমিক নেতারা ও তাদের নেত্রী মনীষা চক্রবর্তী উপস্থিত হননি। প্রশাসন আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান না হলে নগরীর পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments