দেশব্যাপী ‘জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এক বিশাল খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেল ৩টায় কুয়াকাটা পৌরসভার উদ্যোগে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘কচ্ছপখাল’ পরিষ্কারের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের সূচনা করা হয়।
পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন। কর্মসূচিতে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পাশাপাশি বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মী এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা জমে কচ্ছপখালটি ভরাট হয়ে গিয়েছিল, যা মশার নিরাপদ প্রজননস্থলে পরিণত হয়। খালের স্বাভাবিক পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে এবং ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযানে পৌরসভার ৩০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে পৌর প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক বলেন, "গত কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে বরিশাল বিভাগে এর প্রকোপ বেশি। আজ আমরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি লার্ভিসাইড কীটনাশক প্রয়োগ করছি। তবে কেবল প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।"
আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি ও বিএনপি নেতা রহিম খান বলেন, "একসময় এই খালটি অত্যন্ত খরস্রোতা ছিল। কিন্তু স্লুইস গেট বন্ধ থাকা এবং ময়লা জমার কারণে এটি এখন মৃতপ্রায়। মশা নিধনে পৌরসভার এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়, আমরা চাই এই ধারা নিয়মিত বজায় থাকুক।"
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন রাজু জানান, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় তারা নিয়মিতভাবে এ ধরনের পুনরুদ্ধারমূলক কাজে অংশগ্রহণ করে আসছেন।
পৌরসভার এই সমন্বিত উদ্যোগে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝেও ব্যাপক উৎসাহ ও সচেতনতা লক্ষ্য করা গেছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments