Image description

লালমনিরহাটে আলু চাষিরা এবারও চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ ১৮ থেকে ২০ টাকা হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ১০ টাকায়। চড়া দামে সার ও কীটনাশক কিনে আবাদ করলেও ন্যায্যমূল্য না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার হাজারো কৃষক।

তিস্তা, ধরলা ও সানিয়াজান নদীর তীরবর্তী বেলে-দোঁয়াশ মাটি আলু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় লালমনিরহাটে প্রতি বছর ব্যাপক হারে আলুর আবাদ হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারও ফলন বাম্পার হয়েছে। তবে ফলন ভালো হলেও টানা তিন বছর ধরে লোকসানের বোঝা টানতে হচ্ছে চাষিদের।

চাষিদের অভিযোগ, চলতি মৌসুমের শুরুতেই সার ও কীটনাশকের তীব্র সংকট দেখা দেয়। বাধ্য হয়ে খুচরা বাজার থেকে চড়া দামে সার কিনে তারা আবাদ করেছেন। এখন বাজারে আলুর দাম এতোটাই কম যে, উৎপাদন খরচের অর্ধেকও উঠছে না। কৃষকরা জানান, উৎপাদন ও হিমাগারে সংরক্ষণ খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুর পেছনে তাদের ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৩০ থেকে ৩২ টাকা। এই অবস্থায় ক্ষুদ্র চাষিরা বাধ্য হয়ে মাঠেই কম দামে আলু বিক্রি করে দিচ্ছেন।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় ৫টি উপজেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৫০০ হেক্টর। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে।

আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী এলাকার চাষি আবুল কালাম আজাদ আক্ষেপ করে বলেন, "চড়া দামে সার কিনে আবাদ করলাম, কিন্তু এখন বাজারে দাম নাই। বারবার লোকসান দিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি, অথচ সরকারের কোনো কার্যকরী নজরদারি নেই।" অনেক চাষিই মনে করছেন, এভাবে লোকসান হতে থাকলে তারা আগামীতে আলু চাষ ছেড়ে তামাক বা অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকে পড়বেন।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. শাইখুল আরেফিন বলেন, "চাষিরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আলু আবাদ করেছেন। বর্তমানে উৎপাদন খরচ ও বাজার দরের ব্যবধানে প্রতি কেজি আলুতে চাষিদের বড় অংকের লোকসান হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে আলুর বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলা জরুরি।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর