কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত ১২ জনেরই পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় একই পরিবারের মা ও তার দুই শিশুসন্তান এবং এক বৃদ্ধ দম্পতিসহ ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ৩ জন শিশু রয়েছে।
শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘ওয়ান আপ’ মেইল ট্রেনের সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি বাসের সংঘর্ষ হলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর ট্রেনটি বাসটিকে ঠেলে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায়।
পরিচয় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- যশোরের লাইজু আক্তার (২৬) ও তার দুই শিশুকন্যা খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৩); চাঁদপুরের চাপাতলি এলাকার মমিনুল হকের ছেলে তাজুল ইসলাম (৬৭); ঝিনাইদহের মোক্তার বিশ্বাসের ছেলে জুহাদ বিশ্বাস (২৪); যশোরের চৌগাছা উপজেলার সিরাজুল ইসলাম (৭০) ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৫৫); নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার বাবুল চৌধুরী (৫৫); মাগুরার মোহাম্মদপুর এলাকার ওহাব শেখের ছেলে ফচিয়ার রহমান (২৬); চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের বিল্লাল হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (২৫); নোয়াখালীর ফাজিলপুরের মো. সেলিমের ছেলে নজরুল ইসলাম রায়হান (৪৫) এবং লক্ষ্মীপুর সদরের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে সাঈদা (৯)।
ট্রেনের যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, রেলগেটের সিগন্যাল ম্যানের চরম অবহেলার কারণেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। গেট খোলা থাকায় বাসটি রেললাইনে উঠে পড়েছিল। এছাড়া দুর্ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ বারবার ফোন দিলেও কেউ সাড়া দেয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠান। এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বর্তমানে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে। নিহতদের মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments