রূপগঞ্জে গরুর মাংস বলে ঘোড়ার মাংস বিক্রি, ১২টি ঘোড়া উদ্ধার
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচল উপশহরে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে ঘোড়া জবাই করে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির একটি ভয়ংকর সিন্ডিকেট। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোরে পূর্বাচলের ১০ নম্বর সেক্টরে অভিযান চালিয়ে ১২টি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার এবং ২৫টি জবাইকৃত ঘোড়ার বিপুল পরিমাণ মাংস ও হাড় জব্দ করেছে র্যাব ও স্থানীয় প্রশাসন। এই চক্রের সদস্যরা কৌশলে ঘোড়ার মাংস রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন নামিদামি হোটেল ও রেস্টুরেন্টে সরবরাহ করে আসছিল।
স্থানীয় ও র্যাব সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে পূর্বাচল ১০ নম্বর সেক্টরের ৩০৬ নম্বর সড়কে শামসুল হক নামে এক ব্যক্তির বাউন্ডারি ঘেরা প্লটের ভেতর ২০-২৫ জনের একটি দল আলো জ্বালিয়ে কিছু জবাই করছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে প্লট মালিক কাছেই টহলরত র্যাব-১ এর একটি টিমকে খবর দেন। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সিন্ডিকেটের সদস্যরা পালিয়ে যায়।
র্যাব ওই প্লটের ভেতর থেকে ১টি বাচ্চাসহ ১২টি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করে এবং সেখানে জবাই করা ৯টি ঘোড়ার মাংস জব্দ করে। পরে সকালে আশেপাশের আরও কয়েকটি প্লটে তল্লাশি চালিয়ে বস্তাভর্তি ও খোলা অবস্থায় আরও ১৬টি জবাইকৃত ঘোড়ার মাংস ও হাড় উদ্ধার করা হয়।
দুপুরে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় জব্দকৃত কয়েক মণ মাংস ও হাড় গর্ত খুঁড়ে মাটিচাপা দেওয়া হয় এবং জীবিত ঘোড়াগুলোকে স্থানীয় চিড়িয়াখানা বা খামারে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, "পূর্বাচল একটি বিশাল এলাকা হওয়ায় সীমিত জনবল নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জিং। তবে এই ঘোড়া জবাই চক্রের বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।"
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, "জবাইকৃত মাংসগুলো আমরা ডাম্পিং করে দিচ্ছি। জীবিত ঘোড়াগুলো নিরাপদ জিম্মায় রাখা হবে। এই চক্রটি কার কার কাছে এই মাংস বিক্রি করতো তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।"
এদিকে, গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস বিক্রির এই খবরে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তারা এই অসাধু চক্রের হোতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments