প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি পোস্ট করে কারাগারে জামায়াত নেতা
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি পোস্ট করে আজিজুল হক (৩৫) নামে এক জামায়াত নেতাকে ৫৪ ধারায় আটক দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। তাকে গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় জামায়াত নেতারা আজিজুল হককে ছাড়াতে থানায় এসে সুপারিশ করেন। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
গ্রেপ্তার আজিজুল হক জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের ঝনকা বড়টেঙ্গর গ্রামের ইব্রাহিমের ছেলে। আজিজুল হক ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকালে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ ৫৪ ধারায় আজিজুল হককে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠায়। পরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইকবাল হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, মুক্তাগাছা থানা পুলিশ আজিজুল হক নামে একজনকে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠায়। পরে বিচারক শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানায়, অজ্ঞাতনামা কে বা কারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্লগ পেইজে এক নারীর অশ্লীল ছবির সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি এডিট করে "অনেক দিন পর বান্ধবীর সাথে দেখা' লিখে পোস্ট করেন। ওই ফেসবুক পেজ থেকে আজিজুল হক নিজের ফেসবুক আইডিতে ওই পোস্টটি শেয়ার দেন। ওই পেজ থেকে তিনি নিয়মিত দেশ ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন পোস্ট দিয়ে আসছিলেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া আজিজুল হক তার পরিচালিত ঝনকা বাজার নার্সারিতে অচেনা ব্যক্তিদের নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত গোপন মিটিং করতেন। এমতাবস্থায় আজিজুল হককে অপরাধে জড়িত সন্দেহে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টায় উপজেলার ঝনকা বাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মুক্তাগাছা উপজেলা জামায়াতের আমির শামসুল হক বলেন, আজিজুল হক জামায়াত নেতা না। সে জামায়া কর্মী। শুনেছি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি করার ঘটনায় তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাকে ছাড়াতে থানায় গিয়েছিল। 'আপনি থানায় গিয়েছিলেন কিনা' জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমিও গিয়েছিলাম। তবে, অন্য একটি কাজে।
আজিজুল হককে ছাড়াতে জামায়াত নেতাকর্মীরা থানায় এসেছিল জানিয়ে মুক্তাগাছা থানার ওসি মো. লুৎফর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অপপ্রচার চালানোয় আজিজুল হককে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। যেহেতু বিষয়টি প্রধানমস্ত্রীকে নিয়ে তাই মামলা করার আগে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হয়। আলোচনা করে ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ায় মামলার আগে আজিজুল হককে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আজিজুল হকের বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন। স্থানীয় এক রাজনৈতিক কর্মী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবেন।




Comments