Image description

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আইসিইউ সংকটে গত আড়াই মাসে ৫৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চলতি মাসের ১০ থেকে ২৪ মার্চ—মাত্র দুই সপ্তাহেই মারা গেছে ৪৪ শিশু। অধিকাংশই নিউমোনিয়া ও হাম আক্রান্ত ছিল। শিশুদের জন্য আলাদা আইসিইউ না থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।

রোববার (২৯ মার্চ) সরেজমিনে রামেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, বেডসংকট ও চিকিৎসা ব্যবস্থার চাপে নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একেকটি বেডে দুই থেকে তিনজন করে শিশু রাখা হচ্ছে। কোথাও মেঝেতে চিকিৎসা চলছে। অক্সিজেনের জন্য অপেক্ষা, স্বজনদের ভিড় আর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের জন্য আলাদা আইসিইউ না থাকায় সাধারণ আইসিইউর ১২টি শয্যা সাময়িকভাবে তাদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল হওয়ায় অনেক রোগী সময়মতো আইসিইউ সেবা পাচ্ছে না।

পবা উপজেলার বাসিন্দা নূহ আলম বলেন, তাঁর সাড়ে আট মাস বয়সী সন্তান নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। চিকিৎসকেরা আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও শয্যা না থাকায় দুই সপ্তাহ ধরে অপেক্ষা করছেন তিনি।

পুঠিয়ার সালেহা বেগম বলেন, “ডাক্তার আইসিইউতে নিতে বলেছে, কিন্তু বেড পাইনি। ঈদ কেটে গেছে অপেক্ষা করতে করতে।”

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার তরিকুল ইসলাম জানান, তাঁর ছয় মাস বয়সী সন্তান হাম আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ ছিল। আইসিইউ না পেয়ে গত ১৮ মার্চ তার মৃত্যু হয়। একই দিনে দুর্গাপুর উপজেলার আরেকটি শিশুও আইসিইউর অপেক্ষায় মারা যায় বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ১২ শয্যার আইসিইউতে কোনো রোগী ছাড়া না হলে নতুন রোগী ভর্তি করা সম্ভব হয় না। অপেক্ষমাণ তালিকা অনুযায়ী রোগীদের ডাকা হয়। তিনি জানান, গত আড়াই মাসে আইসিইউ না পেয়ে ৫৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আইসিইউতে ভর্তি হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯ শিশু।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, নিউমোনিয়ার পাশাপাশি হাম আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা পূর্ণ টিকা না পাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। চলতি মাসেই হামের উপসর্গ নিয়ে প্রায় ২৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, হাম আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিগগিরই সারাদেশে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হবে।

এদিকে করোনাকালে আইসিইউ স্থাপনের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক ইউনিট চালু করা যায়নি। এ ছাড়া প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২০০ শয্যার রাজশাহী শিশু হাসপাতাল তিন বছরেও চালু হয়নি। ফলে রাজশাহী ও আশপাশের বিভাগের শিশুদের উন্নত চিকিৎসা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত শিশু আইসিইউ চালু ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদার না করলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে।