আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ডিসি
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি বিতর্কিত নিয়োগে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত পোষণ করায় তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) শারমিন আক্তার জাহান।
বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি তাঁর চাকরি জীবনের এই রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন।
বিদায়ী ডিসি শারমিন আক্তার বলেন, "স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে থাকাকালীন একটি নিয়োগের অনিয়ম দেখে আমি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিলাম। আমার সেই নোটের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বাতিল হয়ে যায়। এতে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমার ওপর চরম ক্ষিপ্ত হন এবং আমাকে হত্যার নির্দেশ দেন। বিষয়টি জানতে পেরে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি হয়ে চলে আসি।"
তৎকালীন নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়ম সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, "সেই পরীক্ষায় যে ধরনের প্রশ্ন হয়েছিল, তাতে আমি নিজে পরীক্ষা দিলেও ৫০-৫৫ নম্বরের বেশি পেতাম কি না সন্দেহ। কিন্তু উত্তরপত্রে দেখা যায় অনেকেই ৭০-৮০ নম্বর পেয়ে বসে আছেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় ছিল, খাতার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রত্যেকের হাতের লেখা ছিল একই ধাঁচের। সাধারণত পরীক্ষার শুরুতে ও শেষে হাতের লেখায় কিছুটা পার্থক্য থাকে, কিন্তু সেখানে সব একই ছিল। এসব দেখেই আমার সন্দেহ হয় এবং আমি শক্ত অবস্থান নেই।"
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, "একটা সময় ছিল যখন অফিসের সাধারণ পিয়ন বা অফিস সহকারী বদলি করতে গেলেও চেয়ার নড়বড়ে হয়ে যেত। রাজনৈতিক প্রভাবে কে নেতা আর কে কর্মী তা বোঝাই দায় ছিল। আমি তিন বছরের বেশি সময় ধরে এক কর্মস্থলে থাকা কর্মচারীদের বদলির একটি তালিকা করেছিলাম, কিন্তু আমার বদলি হয়ে যাওয়ায় সেটি আর কার্যকর করে যেতে পারলাম না।"
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাভেদ রহিম বিজনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মো. বাহারুল ইসলাম মোল্লা। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের কার্যকালের বিভিন্ন দিক ও সাফল্য তুলে ধরেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments