Image description

খুলনার পাইকগাছায় চলমান তীব্র জ্বালানি সংকট এবার সরাসরি আঘাত হেনেছে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকতায়। তথ্য সংগ্রহ, ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছানো এবং অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এখন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সময়মতো সঠিক তথ্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার একমাত্র পেট্রোল পাম্পটি দিনের অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকছে। মাঝেমধ্যে তেল সরবরাহ এলেও তা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে সংগ্রহ করতে হচ্ছে। মোটরসাইকেলনির্ভর সাংবাদিকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরছেন। এতে করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে সংবাদ সংগ্রহ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড কিংবা জরুরি কোনো ঘটনার সংবাদ সংগ্রহে দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যদিকে, বিকল্প হিসেবে ভাড়ায় চালিত যানবাহন ব্যবহার করতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনগুণ পর্যন্ত বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। সীমিত আয়ের অনেক সংবাদকর্মীর জন্য এটি একটি বড় আর্থিক চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অনেকেই মাঠপর্যায়ে গিয়ে সংবাদ কাভার করা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

পাইকগাছা প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট এফ এম এ রাজ্জাক বলেন, “সাংবাদিকতা একটি জরুরি সেবা। যেকোনো ঘটনার খবর দ্রুত সংগ্রহ ও প্রচার করা আমাদের পেশাগত দায়িত্ব। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলে সেই দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয় না। সাংবাদিকদের জন্য পাম্পে কোনো অগ্রাধিকার না থাকায় তথ্যপ্রবাহে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হচ্ছে।” তিনি সাংবাদিকদের জন্য জ্বালানি সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি খুলনা বিভাগ থেকে চিকিৎসক, পুলিশ ও সাংবাদিকদের পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সচেতন মহলের মতে, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের নিরবচ্ছিন্ন চলাচল অত্যন্ত জরুরি। সাংবাদিকরা যদি সময়মতো মাঠে যেতে না পারেন, তবে সামাজিক ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাইকগাছায় কর্মরত সাংবাদিকরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং পরিচয়পত্র প্রদর্শনের ভিত্তিতে পাম্পে আলাদা বুথ বা দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর