Image description

বরগুনার তালতলী উপজেলার বগীর হাট থেকে বাঁধঘাট পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির প্রশস্তকরণ ও সংস্কার কাজ এক বছর ধরে ঢিমেতালে চলছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজের অগ্রগতি মাত্র ২৫ শতাংশ না হওয়ায় চরম ভোগান্তি ও বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উপজেলার ছোটবগী থেকে তালতলী বাঁধঘাট পর্যন্ত ৯.৭ কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্তকরণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৪ কোটি ৫৩ লাখ ৯৪ হাজার ১০৫ টাকা বরাদ্দের এই কাজটি পায় ‘বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন’ নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় কাজ ফেলে রাখে। বর্তমানে সড়কটি চলাচলের একেবারেই অযোগ্য হয়ে পড়ায় এটি দুর্ঘটনার মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কাজ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ওই সড়কে যাতায়াত করতে গিয়ে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। সম্প্রতি দুই শিশু শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে বরিশালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধি বশির উদ্দিন কাজের ধীরগতির কথা স্বীকার করে বলেন, “প্রকৌশলীরা কাজের জন্য নিয়মিত তাগিদ দিচ্ছেন। শুরুতে উপকরণের মান নিয়ে কিছু সমস্যা থাকলেও এখন মানসম্মত সামগ্রী দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। তবে সরকার পতনের কারণে কাজে কিছুটা স্থবিরতা এসেছিল।”

উপজেলা প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিকে দায়ী করে বলেন, “আমরা একাধিকবার চিঠি দিয়েছি। শুরুতে তারা নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করেছিল, যা আমাদের হস্তক্ষেপে পরিবর্তন করা হয়েছে। দুর্ভোগ লাঘবে আপাতত সাধারণ মানুষকে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।”

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সড়কটির বেহাল দশা নিয়ে অনেক অভিযোগ পেয়েছি। জেলা পর্যায়ের সভায় বিষয়টি বারবার উত্থাপন করা হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্তভাবে জানানো হবে। এতেও কাজ না হলে তাদের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হবে।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর