লোহাগড়ায় দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রকে নির্যাতনের অভিযোগ
নড়াইলের লোহাগড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র কৃষ্ণ হালদারকে অমানবিক শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে স্কুল চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার শিক্ষার্থী নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রানী চক্রবর্তী পড়া না পারার অজুহাতে কৃষ্ণ হালদারকে ব্ল্যাকবোর্ড মোছার ডাস্টার দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদম মারধর করেন। এতে শিশুটির পিঠ ও হাতে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, এর আগে গত ১ এপ্রিল একই বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক দীপক কুমারও ওই শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছিলেন। সে সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমানা আক্তারকে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। পরিবারের দাবি, অভিযোগ করার কারণে শিক্ষকরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে পুনরায় এই মারধরের ঘটনা ঘটিয়েছেন।
কৃষ্ণ হালদারের বাবা উত্তম হালদার ও মা পল্লবী বলেন, ‘সামান্য কারণে আমার ছেলেকে বারবার পশুর মতো পেটানো হচ্ছে। ছেলেটি এখন প্রচণ্ড আতঙ্কে আছে এবং স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে। আমরা এই অমানবিক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমানা আক্তার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি নিষেধ করার পরও তারা এ ধরনের কাজ করেছেন। সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষককে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।’
এদিকে মঙ্গলবার নির্যাতনের ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হলে লোহাগড়া জুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments