Image description

বরিশালের বাবুগঞ্জে ১২ বছর বয়সী এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে সহকারী শিক্ষক মোঃ মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযুক্ত শিক্ষক বাবুগঞ্জ থানার সামনে অবস্থিত ‘আল ইকরা দারুল উলুম নূরানী ও হাফিজিয়া মাদরাসা’র শিক্ষক।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মার্চ রাত ১টার দিকে হিফজ বিভাগের ওই শিক্ষার্থীকে ঘুম থেকে ডেকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যান শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ। সেখানে তাকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করা হয়। ভয়ের কারণে শিক্ষার্থী বিষয়টি প্রথমে গোপন রাখলেও পরে পরিবারকে জানায়। ভুক্তভোগী পরিবার আরও অভিযোগ করে যে, এর আগেও একাধিকবার একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন ওই শিক্ষক।

এ ঘটনায় ১১ এপ্রিল রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা কবির হোসেন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বাবুগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ পলাতক রয়েছেন।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদরাসার পরিচালক মুফতি আমিনুল ইসলাম প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এর আগেও এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে তা প্রভাব খাটিয়ে মীমাংসা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য পরিচালক আমিনুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি।

বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোহাম্মদ এহতেশামুল ইসলাম বলেন, "অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর