অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা আলোচিত তিনটি অধ্যাদেশসহ বিভিন্ন অধ্যাদেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানিয়েছেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়নি, বরং অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে সেগুলো আবারও বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা হবে।
রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৭টি হুবহু বিল আকারে পাস করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারিয়েছে এবং ১৬টি অধ্যাদেশ প্রয়োজনীয় সংশোধনীর মাধ্যমে পাস করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অধ্যাদেশগুলো সংসদে পাসের ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের অস্বচ্ছতা রাখেনি।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ (বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংশোধন অধ্যাদেশ) রহিত করা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন যে, এই অধ্যাদেশগুলো বাতিলের মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলা হচ্ছে।
এই সমালোচনার জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, “যারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত বিলগুলো রহিতের সমালোচনা করছেন, তারা না বুঝেই করছেন। এই অধ্যাদেশগুলোর কিছু জায়গায় আরও সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই ও পরিমার্জনের প্রয়োজন আছে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলে সেগুলো আবারও সংসদে তোলা হবে।”
উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল টিআইবির পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছিল, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস বা দুর্বলতা কাম্য নয়। তবে সরকার বলছে, রাষ্ট্র সংস্কারের কাজগুলো আরও টেকসই ও নিখুঁত করতে তারা কিছুটা সময় নিয়ে বিলগুলো চূড়ান্ত করতে চায়।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments