Image description

ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার শান্তি আলোচনা কোনো ফল ছাড়াই ভেঙে যাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘হরমুজ অবরোধ’ বা ব্লকেডকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ওই রণকৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি পাড়ি দিয়েছে একটি বিশাল ইরানি সুপারট্যাঙ্কার। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় দুই মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনে সক্ষম এই ‘ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার’ জাহাজটি ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা জারির পর প্রথম বড় জাহাজ হিসেবে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর নজরদারি এড়িয়ে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যায়। জাহাজটি তেলবাহী ছিল নাকি খালি ছিল সে বিষয়ে ইরান বিস্তারিত কিছু না জানালেও একে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে সোমবার (১৩ এপ্রিল) ওয়াশিংটন সময় রাত ৮টা থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, “ইরানের কোনো জাহাজ যদি অবরুদ্ধ অঞ্চলের কাছে আসে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেটি ধ্বংস করে দেওয়া হবে।” এমনকি ইরানকে টোল পরিশোধ করা যেকোনো আন্তর্জাতিক জাহাজকেও আটকের নির্দেশ দেন তিনি।

তবে ট্রাম্পের এই কঠোর হুমকির মধ্যেই কেবল ইরান নয়, মঙ্গলবার চীনের একটি তেলের ট্যাঙ্কারও সফলভাবে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘মেরিন ট্রাফিক’ ও ‘কেপলার’ জানিয়েছে, ‘রিচ স্টারি’ নামক চীনা ট্যাঙ্কারটি অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর প্রথম জাহাজ হিসেবে উপসাগর থেকে নির্বিঘ্নে বের হয়ে আসে। উল্লেখ্য, এই চীনা জাহাজটির ওপর আগে থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। এছাড়া ‘মুরলিকিশান’ নামের আরেকটি নিষিদ্ধ জাহাজ বর্তমানে হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্পের এই ব্লকেড মূলত ইরানের তেল অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার চেষ্টা। কিন্তু মার্কিন নৌবাহিনীর চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে একের পর এক জাহাজ প্রণালি পার হওয়ায় ট্রাম্পের এই রণকৌশল কতটা সফল হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই