Image description

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একটি আয়রন ব্রিজের ঢালাই কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের দুশুমি-করিমবাজার খালের ওপর নির্মাণাধীন ব্রিজটি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে সেটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রত্নপুর ইউনিয়নের দুশুমি-করিমবাজার খালের ওপর বারপাইকা গ্রামের রুহুল আমিনের বাড়ির সামনে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে এই আয়রন ব্রিজটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। গত মঙ্গলবার ব্রিজের উত্তর পাশের শেষ অংশে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢালাই দেওয়া হয়। এই অনিয়মের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুরো উপজেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়।

খবর পেয়ে গতকাল সকালে উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় স্থানীয় শতাধিক মানুষ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই কাজ সম্পন্ন করেছেন। প্রকৌশলী সরেজমিনে অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ব্রিজটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক জানান, "সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমি প্রকৌশলীকে তদন্তে পাঠাই। তদন্তে বাঁশ ব্যবহারের সত্যতা মিলেছে। ব্রিজের মূল কাঠামোটি গত অর্থবছরে ১% তহবিলের অর্থায়নে নির্মিত হলেও উপরের ঢালাই বাকি ছিল। চলতি অর্থবছরে ঢালাইয়ের কোনো বরাদ্দ বা অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা নিজ উদ্যোগে এলাকাবাসীর সহায়তায় এই ঢালাই দিয়েছেন এবং সেখানে বাঁশ ব্যবহার করেছেন।"

ইউএনও আরও বলেন, "বাঁশ ব্যবহারের ফলে ব্রিজের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তাই এটি ভেঙে সরকারি নিয়ম মেনে নতুন করে ব্রিজটি নির্মাণ করে দেওয়া হবে। যারা এ ধরনের কাজ করে উপজেলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজের দৈর্ঘ্য ৫৫ ফুট হওয়ার কথা থাকলেও ঢালাই দেওয়া হয়েছে ৪৫ ফুট। ৫ ইঞ্চি ঢালাই দেওয়ার নিয়ম থাকলেও দেওয়া হয়েছে মাত্র সাড়ে ৩ ইঞ্চি। এছাড়া ৮ ইঞ্চি পরপর রড দেওয়ার নিয়ম থাকলেও ১ ফুট পর পর রড দিয়ে এবং উত্তর প্রান্তে বাঁশ দিয়ে অনিয়ম করা হয়েছে। স্থানীয়রা ঢালাইয়ের সময় বাধা দিলেও কাজ বন্ধ করেননি সংশ্লিষ্টরা।

মানবকণ্ঠ/ডিআর