Image description

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় ধর্ম পরিবর্তন করা এক ব্যক্তির শেষকৃত্য নিয়ে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মৃত ব্যক্তি মুসলিম নাকি হিন্দু—এই পরিচয় নিয়ে বিরোধের জেরে জানাজা ও দাফন বনাম দাহ করাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ জেলার তেঘরিয়া গ্রামের সুব্রত পোদ্দার (কানু) প্রায় ২১ বছর আগে এফিডেভিটের মাধ্যমে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর তার নাম রাখা হয় কাজী সোহাগ। পরবর্তীতে তিনি গোপালগঞ্জের মাঠলা তেতুলিয়া এলাকার মমতাজ মিমকে বিয়ে করেন এবং তাদের সংসারে আব্দুর রহমান (৯) নামে এক পুত্রসন্তান রয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মোল্লাহাট উপজেলার দত্তডাঙ্গা রাইরসরাজ সেবাশ্রমে অবস্থানকালে কাজী সোহাগের মৃত্যু হয়। অভিযোগ রয়েছে, মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ও সন্তানকে না জানিয়ে লাশটি মোল্লাহাটের উত্তর আমবাড়ি শ্মশানে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ করার জন্য চিতায় তোলা হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সোহাগের স্ত্রী মমতাজ মিম ও মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত তাদের একমাত্র সন্তান। তারা মৃত ব্যক্তিকে মুসলিম হিসেবে দাবি করে জানাজা ও দাফনের আবেদন জানালে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।

মোল্লাহাট থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) কাজী রমজানুল হক জানান, ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিরোধ তৈরি হওয়ায় মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমনা আইরিন বলেন, “ধর্মীয় পরিচয় ও শেষকৃত্য নিয়ে কোনো ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং এফিডেভিট যাচাই করে প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”

অন্যদিকে, মৃতের মা রিতা রানী পোদ্দার দাবি করেন, তার ছেলে হিন্দু হিসেবেই মারা গেছেন। তবে কাজী সোহাগ পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে এসেছেন—এমন কোনো দালিলিক প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। 

মানবকণ্ঠ/ডিআর