পিরোজপুরের জিয়ানগরে (ইন্দুরকানী) সাহসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তাহমিনা আক্তার নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী। নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকাতে পরিবারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সরাসরি থানায় গিয়ে পুলিশের আশ্রয় নিয়েছে সে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী থানায় এ ঘটনা ঘটে।
তাহমিনা আক্তার উপজেলার সরকারি সেতারা স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ও আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার্থী। সে উপজেলার চাড়াখালী গ্রামের আলম হাওলাদারের মেয়ে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার আলম হাওলাদার তার মেয়ে তাহমিনাকে একজন প্রবাসী যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার জন্য বাড়িতে ব্যাপক আয়োজন করেন। কিন্তু তাহমিনা এই বাল্যবিয়েতে প্রবল আপত্তি জানায়। তার অমত সত্ত্বেও পরিবার বিয়ের প্রস্তুতি চালিয়ে গেলে সে কৌশলে বাড়ি থেকে বের হয়ে সরাসরি ইন্দুরকানী থানায় গিয়ে হাজির হয়। পরবর্তীতে পুলিশ তাহমিনার বাবাকে ডেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
তবে বাড়ি ফেরার পর শুক্রবার রাতেই তাহমিনাকে আবারও বিয়ের জন্য পরিবার থেকে প্রচণ্ড মানসিক চাপ দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে শনিবার সকালে তাহমিনা দ্বিতীয়বারের মতো থানায় গিয়ে পুলিশের আশ্রয় প্রার্থনা করে।
থানায় বসে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তাহমিনা সাংবাদিকদের বলে, “আমাকে যদি আবারও বাড়িতে পাঠানো হয়, তবে আমার বাবা আমাকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দেবেন। আমার সামনে এসএসসি পরীক্ষা। আমি শিক্ষিত হতে চাই, নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। আমি প্রশাসন ও আপনাদের সহযোগিতা চাই।”
তাহমিনার সহপাঠীরা জানায়, তাহমিনা পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী এবং মেধাবী। তারা তাদের বন্ধুর এই সাহসিকতাকে সমর্থন জানিয়ে তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানায়।
এ বিষয়ে তাহমিনার বাবা আলম হাওলাদার বলেন, “আমি গরিব মানুষ, ভালো পাত্র পাওয়ায় বিয়ের আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু মেয়ে যখন রাজি নয় এবং প্রশাসনের নিষেধ আছে, আমি আর বিয়ে দেবো না। উপযুক্ত বয়স না হওয়া পর্যন্ত তাহমিনা পড়াশোনা চালিয়ে যাবে।”
ইন্দুরকানী থানার এসআই সাইদুর রহমান বলেন, “তহমিনা আক্তার বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেতে দুইবার থানায় এসেছে। আমরা তার বাবার কাছ থেকে কঠোর মুচলেকা নিয়েছি এবং তাকে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি। কিশোরীটির পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সজাগ থাকবে।”
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments