Image description

‘আয়েশা হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করো’, ‘আমার বোন কবরে, খুনি কেন বাইরে’—এমন বুকফাটা আর্তনাদ আর প্রতিবাদী স্লোগানে সোমবার সকালে প্রকম্পিত হয়েছে কুড়িগ্রামের চিলমারী। দুই বছরের শিশু আয়েশার নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও খুনিদের দ্রুত বিচারের দাবিতে রাজপথে নেমে আসে হাজারো মানুষ। শোক আর ক্ষোভ মিশে একাকার হওয়া এই কর্মসূচি যেন হয়ে ওঠে পুরো জনপদের এক দাবি।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে চিলমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লাকার্ড হাতে জড়ো হন। তারা প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন এবং ঘাতকদের গ্রেপ্তারে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে আন্দোলনকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসানের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা চিলমারী মডেল থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। প্রায় আধা ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেও পুলিশের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো আশ্বাস না পেয়ে তারা উপজেলা পরিষদের সামনের প্রধান সড়ক অবরোধ করে। এতে গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ইউএনও মো. মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থলে এসে দ্রুততম সময়ে দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

অবরোধ চলাকালে এলাকাবাসীর পক্ষে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন সরকার শিরিন। তিনি বলেন, ‘একটি নিষ্পাপ শিশুকে যেভাবে উপড়ে ফেলা হয়েছে, তা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য লজ্জার। খুনিদের গ্রেপ্তারে কোনো গড়িমসি সহ্য করা হবে না। বিচার না পেলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

নিহত আয়েশার বাবা মো. আলমগীর হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছোট মেয়েটাকে অমানুষিকভাবে মেরে ফেলা হলো। অথচ অভিযুক্তরা এখনো বুক ফুলিয়ে বাইরে ঘুরছে। আমি প্রশাসনের কাছে আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই।’

এ বিষয়ে চিলমারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার জানান, পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। প্রকৃত আসামিদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং দ্রুতই তারা আইনের আওতায় আসবে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল সকালে চিলমারীর থানাহাট ইউনিয়নের মাচাবান্দা শাহপাড়া এলাকা থেকে দুই বছর বয়সী আয়েশা খাতুন নিখোঁজ হয়। ওই দিন রাতেই বাড়ির পাশের এক নির্জন জায়গা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকালে শিশুটির একটি চোখ উপড়ানো এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর