চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ ভারী বর্ষণে জনজীবন লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে গাছপালা উপড়ে ও বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পুরো এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ায় এর চরম প্রভাব পড়েছে চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায়। অন্ধকারাচ্ছন্ন কক্ষে মোমবাতি ও চার্জার লাইটের আলোয় পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়েছে শত শত পরীক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার সময় উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে এমন ভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে। আকাশ মেঘলা থাকায় কক্ষগুলোতে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো ছিল না। এর ওপর বিদ্যুৎ না থাকায় বৈদ্যুতিক পাখা বন্ধ হয়ে গুমোট ও অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরীক্ষার্থীরা জানায়, পর্যাপ্ত আলো না থাকায় প্রশ্নপত্র পড়া এবং উত্তরপত্রে লিখতে তাদের চরম হিমশিম খেতে হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ অন্ধকারে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ায় অনেকেই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিয়ে শঙ্কিত।
এদিকে, চরম প্রতিকূল পরিবেশে সন্তানদের পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা গেছে। এক অভিভাবক আক্ষেপ করে বলেন, ‘পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কেন্দ্রগুলোতে জেনারেটর বা আইপিএস-এর মতো বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকা উচিত ছিল। কর্তৃপক্ষের এমন গাফিলতি আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’
ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব বেনজুর আহমেদ মুন্সী জানান, পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে তাঁরা আগে থেকেই কিছু এলইডি লাইটের ব্যবস্থা করেছিলেন, যার ফলে শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ভালো পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পেরেছে। নিশ্চিন্তপুর স্কুল কেন্দ্র সচিব মো. আরিফুল্ল্যা জানান, ঝোড়ো আবহাওয়ায় কক্ষগুলো অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় তাঁরা দ্রুত শতাধিক মোমবাতির ব্যবস্থা করে পরীক্ষা সচল রেখেছেন। তবে দশানী মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সজীব চন্দ্র জানান, মোমবাতি ও চার্জার লাইট দিয়ে চেষ্টা করা হলেও দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং সামাল দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (মতলব উত্তর জোনাল অফিস) সূত্র জানিয়েছে, ঝড়ে লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় মেরামত করতে সময় লাগছে। তবে পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে কেন্দ্রগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ কারও নিয়ন্ত্রণে নেই। তবে কোনো অবস্থাতেই যেন পরীক্ষা ব্যাহত না হয়, সেজন্য প্রতিটি কেন্দ্র সচিবকে বিকল্প আলোর ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments