এক দশকের প্রতীক্ষা ও জটিলতা কাটিয়ে চালু হলো রূপাতলী ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট
দীর্ঘ ১০ বছরের প্রতীক্ষা ও নানা আইনি ও প্রযুক্তিগত জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে সচল হলো বরিশাল নগরীর রূপাতলী ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। বুধবার (২৯ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্লান্টটির উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। এর মাধ্যমে নগরবাসীর বিশুদ্ধ পানির দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলো।
২০১২-১৩ অর্থবছরে রূপাতলীতে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৬ সালে কাজ শেষ হলেও হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় জটিলতার কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘকাল অচল পড়ে ছিল। সম্প্রতি ৪ কোটি ৭ লক্ষ ১২ হাজার ১৪৫ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় মঞ্জুর করে প্লান্টটি পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেন বর্তমান প্রশাসক।
বিসিসির পানি সরবরাহ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই শোধনাগারের দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ১ কোটি ৩০ লাখ লিটার। এটি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৬.৬৭ লাখ লিটার পানি পরিশোধন করতে সক্ষম। সম্পূর্ণ অত্যাধুনিক ৬টি ধাপে নদীর পানি পরিশোধন করে নগরবাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। প্লান্টটির রিজার্ভারের ধারণক্ষমতা ২ লক্ষ ৫০ হাজার লিটার এবং এটি পরিচালনায় প্রতি ঘণ্টায় ১২২ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন।
প্লান্টটি উদ্বোধনকালে প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, "অতিরিক্ত ডিপ টিউবওয়েল ব্যবহারের ফলে বরিশালের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, যা নগরীকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এই প্লান্ট চালুর ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে এবং শহর রক্ষা পাবে।" তিনি আরও জানান, নগরীর বেলতলা এলাকায় অবস্থিত অন্য ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টটিও খুব শীঘ্রই চালু করা হবে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সেবা চালু হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন রূপাতলী এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা নয়ন বলেন, "অবশেষে প্লান্টটি চালু হওয়ায় আমরা খুশি। এখন নিয়মিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত হলে আমাদের কষ্ট অনেকটাই কমবে।" বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এটি হবে বরিশালের টেকসই নগর উন্নয়নের অন্যতম মাইলফলক।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments