Image description

বিএনপির শাসনামলে শেয়ারবাজার লুটপাটের কোনো সুযোগ ছিল না এবং বর্তমান সময়েও কাউকে সেই সুযোগ দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’-এর ওপর বিশেষ কমিটির সুপারিশ বিবেচনার প্রস্তাব উত্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন।

অধিবেশনে বিলটির ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে শেয়ারবাজার থেকে এক লাখ কোটি টাকার বেশি লুটপাট হয়েছে, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অর্থ। অন্তর্বর্তী সরকারের শ্বেতপত্রের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, ১৯৯৬ ও ২০১০ সালের ভয়াবহ ধসের পরও অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়নি। পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে জড়িতদের বিচার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থায় দক্ষ ব্যক্তি নিয়োগের দাবি জানান তিনি।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশেষ কমিটি বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে, তাই এটি পুনরায় জনমত যাচাইয়ের প্রয়োজন নেই। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমান সরকার শেয়ারবাজারের স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। পরে কণ্ঠভোটে রুমিন ফারহানার প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়।

একই অধিবেশনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ নিয়ে আলোচনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে অর্থমন্ত্রী বর্তমান গভর্নরের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বলেন, আর্থিক খাতে রাজনৈতিক নিয়োগ না দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের গভর্নরের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যক্তিগত সমর্থন কাউকে ‘দলের লোক’ বানিয়ে দেয় না, বরং মেধার ভিত্তিতেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অধিবেশনের শেষ পর্যায়ে ‘বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ authority (সংশোধন) বিল-২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়। যদিও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এই বিলগুলোর বিষয়ে আরও আলোচনার সময় চাওয়া হয়েছিল, তবে তা গ্রহণ করা হয়নি।

মানবকণ্ঠ/আরআই