ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় বেপরোয়া গতিতে ট্রাক চালিয়ে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটানোর অভিযোগে গণপিটুনির শিকার হয়ে হান্নান (৪৫) নামে এক চালকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) রাত ৮টার দিকে উপজেলার তালমা ইউনিয়নের বিলনালিয়া নতুন হাটখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত হান্নানের বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায়।
এ ঘটনায় ট্রাকের হেল্পারসহ আরও দুজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতরা হলেন—সালথা উপজেলার সোনাখোলা গ্রামের নাঈম (২২) ও একই উপজেলার কাগদী এলাকার আল-আমিন (২৫)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে সালথার রসুলপুর এলাকা থেকে একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ট-১২৭৩৩২) অত্যন্ত দ্রুতগতিতে গ্রামের সরু সড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, পথে রসুলপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ট্রাকটি অন্তত ৯ জন পথচারীকে ধাক্কা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ট্রাকটি বিলনালিয়া নতুন হাটখোলা এলাকার ‘মুন্সী স্টোরে’ সজোরে ধাক্কা দিলে ক্ষুব্ধ জনতা সেটির গতিরোধ করে।
এ সময় উত্তেজিত জনতা ট্রাকচালক, হেল্পারসহ তিনজনকে ধরে বেধড়ক মারধর করে এবং ট্রাকটি ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান, নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ ও তালমা ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চালক হান্নানের মৃত্যু হয়।
তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া বলেন, “ট্রাকটি বেপরোয়া গতিতে এসে দোকানে ধাক্কা দিলে স্থানীয়রা চালকসহ তিনজনকে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালেও চালককে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।”
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ট্রাকটি বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে আসছিল। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments