Image description

নড়াইলের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সোনালী রঙে ভরে উঠেছে পাকা বোরো ধান। বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটলেও হঠাৎ শুরু হওয়া বৈরী আবহাওয়ায় সেই আনন্দে বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। ঘনঘন ঝড়-বৃষ্টির কারণে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানো নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন জেলার হাজার হাজার কৃষক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠের অধিকাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটার উপযুক্ত হয়ে উঠেছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় অনেক কৃষক ধান কাটতে সাহস পাচ্ছেন না। আবার যারা ধান কেটে মাঠে রেখেছিলেন, তারা পড়েছেন আরও বেশি বিপাকে। আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টিতে কাটা ধান ভিজে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। নিচু এলাকায় কাটা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

জেলার সদর উপজেলার তুলারামপুর, মুলিয়া, মির্জাপুর, হবখালী, মাইজপাড়া, চন্ডিবরপুর, আউড়িয়াসহ লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক ঝড়ে পাকা ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, একদিকে বৈরী আবহাওয়া, অন্যদিকে কৃষি শ্রমিকের চড়া মজুরি তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১,০০০ থেকে ১,১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে, অথচ বাজারে ধানের দাম আশানুরূপ নয়।

লোহাগড়া উপজেলার আমাদা গ্রামের কৃষক এসকেন মৃধা ও কুমড়ি গ্রামের জান্নাত হোসেন বলেন, "রোদ দেখে ধান কেটেছিলাম, কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে সব ভিজে গেল। এখন এই ভেজা ধান শুকানো আর ঘরে তোলা নিয়ে আমরা দিশেহারা। আকাশে মেঘ দেখলেই এখন বুক কাঁপে।"

নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৫০ হাজার ২৯৭ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে চমৎকার।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আরিফুর রহমান বলেন, "প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আমরা কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিচ্ছি। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে।"

সোনালী ফসল ঘরে তুলতে এখন টানা কয়েকদিন রোদেলা আবহাওয়ার প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছেন নড়াইলের চাষিরা।

মানবকণ্ঠ/ডিআর