ভিডিও ফাঁসের হুমকি ও ব্ল্যাকমেইলে অকালে ঝরে গেল স্কুলছাত্রী মুনিয়া
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আন্নিছা মুনিয়া খাতুনের (১৬) মৃত্যুর ঘটনায় উদ্ধার হওয়া এক ‘সুইসাইড নোট’ বা চিরকুট এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। নিজের শয়নকক্ষ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া মুনিয়া মৃত্যুর আগে লিখে যাওয়া চিরকুটে তার এই চরম পরিণতির জন্য এক যুবককে দায়ী করেছেন এবং তার বিচার চেয়েছেন।
নিহত আন্নিছা মুনিয়া খাতুন উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের চান্দাইকোনা পূর্বপাড়া এলাকার শিক্ষক রইস উদ্দিনের মেয়ে এবং চান্দাইকোনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশের উদ্ধার করা চিরকুট থেকে জানা যায়, মুনিয়া তার মা-বাবার কাছে ক্ষমা চেয়ে লিখেছে, “আব্বু আম্মু আমাকে তোমরা মাফ করে দিও, আমি ইচ্ছা করে মরতে চাই নাই। আমাকে মরতে বাধ্য করা হয়েছে। আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম, আমাকে বাঁচতে দিল না।” চিরকুটে মুনিয়া তার মৃত্যুর জন্য রায়গঞ্জ উপজেলার বরায়দাহ দক্ষিণ পাড়ার নজরুল ইসলামের ছেলে নীরবকে দায়ী করেছে।
মুনিয়ার অভিযোগ, নীরব তাকে ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করত। মুনিয়া তার কথা না শুনলে তার একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সবার কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল নীরব। এমনকি মুনিয়া দাবি করেছে, সে কথা না শোনায় ওই ভিডিওটি অন্য একজনের কাছে পাঠিয়েও দিয়েছিল ওই যুবক। এই অপমান এবং মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহননের পথ বেছে নেয় সে। চিরকুটের শেষে সে তার বাবার কাছে আকুতি জানিয়েছে যেন নীরবের কঠিন শাস্তি হয়।
এদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত নীরবের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে সোমবার (৪ মে) সকালে চান্দাইকোনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে তার সহপাঠী ও এলাকাবাসী। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রথম দিকে বিষয়টিকে স্বাভাবিক আত্মহত্যা মনে হলেও চিরকুট পাওয়ার পর বোঝা যাচ্ছে এটি একটি পরিকল্পিত সামাজিক হত্যাকাণ্ড।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান জানান, "মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া চিরকুটটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। নিহতের পরিবার যদি লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করে, তবে চিরকুটের তথ্যানুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
উল্লেখ্য, গত ১ মে সন্ধ্যায় নিজ ঘর থেকে মুনিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে চিরকুটটি পাওয়ার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments