Image description

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার শিমুলিয়া (পুবাইল) এলাকায় নির্মাণাধীন লাইনের ১৭টি বৈদ্যুতিক খুঁটি একসঙ্গে ভেঙে পড়ে স্কুলশিক্ষিকা শিউলী বেগম নিহতের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও নিম্নমানের কাজকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বুধবার (৬ মে) সকাল ১১টায় শিমুলিয়া এলাকায় নিহত শিক্ষিকার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ. টি. এম. কামরুল ইসলাম। এদিকে, কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন মানবকন্ঠকে জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে টঙ্গী–ঘোড়াশাল আঞ্চলিক সড়কের শিমুলিয়া এলাকায় নির্মাণাধীন পুবাইল ১৩২/৩৩ কেভি সাবস্টেশন লাইনের সারিবদ্ধ ১৭টি খুঁটি হঠাৎ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তুমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিউলি বেগম (৪৫) নিহত হন এবং অন্তত পাঁচজন পথচারী আহত হন। এই ঘটনার পর গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কে টানা পাঁচ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে, যার ফলে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
দুর্ঘটনার পর থেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় বইছে।

স্থানীয় নেটিজেনদের অভিযোগ, জনবহুল রাস্তার পাশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না রেখে এবং খুঁটি স্থাপনে সঠিক মান বজায় না রাখায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা বলছেন, এটি কেবল দুর্ঘটনা নয়, বরং কাঠামোগত অবহেলা ও দুর্নীতির ফল। অনেকে দাবি তুলেছেন, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষী ঠিকাদার ও তদারককারী কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও নির্মাণকাজের মান খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, দায়সারা তদন্ত নয়, বরং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এমন প্রাণহানি আর না ঘটে।

মানবকণ্ঠ/আরআই