Image description

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদে জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতির সুযোগে গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে দালালি, অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পোশাক ছাড়া ডিউটি করা থেকে শুরু করে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা দাবি এবং সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে তারা পুরো পরিষদকে জিম্মি করে ফেলেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে বুধবার (৬ মে) দুপুরে রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, গত তিন দিন ধরে দফেদার ছাত্তারসহ কর্মরত ৮ জন গ্রাম পুলিশের কারোরই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর নেই। সাংবাদিকদের উপস্থিতির খবর পেয়ে কয়েকজন দ্রুত পরিষদে এসে স্বাক্ষর করেন। তবে এ সময় তাদের গায়ে নির্ধারিত সরকারি পোশাক ছিল না। পোশাক না থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তারা উদ্ধত আচরণ করেন।
পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সামসুল ইসলাম জানান, বারবার সতর্ক করার পরও তারা নিয়মিত পোশাক পরেন না। তাদের অনিয়মিত উপস্থিতির বিষয়ে অভিযোগ তুলেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রাম পুলিশরা সরাসরি দালালি চক্রের সঙ্গে জড়িত। জন্ম নিবন্ধন সংশোধন বা ওয়ারিশ সনদের মতো জরুরি সেবা পেতে হলে তাদের টাকা দিতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মনির হোসেন ওয়ারিশ সনদের জন্য টাকা দাবি করেন এবং সেই টাকা দফেদার ছাত্তারের মাধ্যমে লেনদেনের একটি কল রেকর্ডও ফাঁস হয়েছে। টাকা না দিলে সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও দীর্ঘদিনের।

এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের পুরনো আসবাবপত্র ও সরকারি গাছের ফল-ফসল গ্রাম পুলিশরা নিজেদের বাড়িতে নিয়ে ভোগ করছেন বলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন।

সার্বিক বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ইউপি প্রশাসক ফরিদ আল সোহান জানান, গ্রাম পুলিশদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মানবকণ্ঠ/আরআই