ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় কৃষির উন্নয়নের নামে নির্মিত একটি স্লুইচ গেট এখন স্থানীয় কৃষকদের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত এই স্লুইচ গেটের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে প্রতি বছর কয়েকশ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে। এতে ক্ষোভে ফুঁসছেন উপজেলার ৪টি গ্রামের শত শত কৃষক।
স্থানীয় এলজিইডি কার্যালয়সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় কৃষি, মৎস্য ও পানি ব্যবস্থাপনার জন্য উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের বিল কেইলা খালে ২০২১-২২ অর্থ বছরে জাইকার অর্থায়নে ৮৮ লাখ ৯৫ হাজার ৭৮০ টাকা ব্যয়ে এই স্লুইচ গেইটটি নির্মাণ করা হয়| কিন্তু স্লুইচ গেইটটি উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ| অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত এই গেইটের কারণে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, ফলে প্রতিবছর তলিয়ে যাচ্ছে কয়েকশ হেক্টর জমির ফসল| এতে ধূরুয়া, বিশ্বনাথপুর, তেরশিরা ও কান্দুলিয়া গ্রামের কৃষকরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন|
সরেজমিনে দেখা গেছে, স্লুইচ গেইটটির অবস্থান ও নকশাগত ত্রুটির কারণে পানি প্রবাহের গতি কমে যাওয়ায় আশপাশের কৃষি জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে|
ধূরুয়া গ্রামের কৃষক সিদ্দিক মিয়া ও নজরুল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, আগে খালে ¯^াভাবিকভাবে পানি চলাচল করত, কিন্তু স্লুইচ গেইট নির্মিত হওয়ার পর থেকে আমন ও বোরো কোনো ফসলই ঠিকমতো ঘরে তোলা যাচ্ছে না| চাষাবাদের খরচ বাড়লেও জলাবদ্ধতার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় কৃষকরা এখন দিশেহারা|
বিশ্বনাথপুর গ্রামের মিজানুর রহমান রাকিব ও এরশাদ মিয়া অভিযোগ করেন, বাস্তবতা যাচাই না করেই এই গেইট নির্মাণ করা হয়েছে|
বছরের পর বছর স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোনো প্রতিকার মেলেনি| ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, কৃষি ও কৃষক বাঁচাতে প্রয়োজনে এই সুইচ গেইটটি দ্রুত অপসারণ করে আগের মতো পানি চলাচলের ব্যবস্থা করা হোক|
এ বিষয়ে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পা জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে|




Comments