Image description

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে কলেজছাত্র সুলতান মাহমুদ মিজানকে ছুরিকাঘাতে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহার নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রাথমিক লিখিত অভিযোগে নাম থাকলেও চূড়ান্ত এজাহার থেকে রহস্যজনকভাবে এক প্রভাবশালী নেতার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে অভিযুক্তকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে কলেজছাত্র সুলতান মাহমুদ মিজানকে পরিকল্পিতভাবে মুঠোফোনে সান্তাহার কালিমন্দির এলাকায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে মিজানকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরিকাঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় ওই রাতেই আহত মিজানের বাবা বাদী হয়ে আদমদীঘি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে জোবায়ের, জয়, বাপ্পী, বিপ্লব, লিয়ন ও মানিকসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে মামলাটি যখন আনুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ড করা হয়, তখন দেখা যায় প্রাথমিক তালিকার ৬ নম্বর অভিযুক্ত মানিকের নাম রহস্যজনকভাবে বাদ পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাদ পড়া মানিক সান্তাহার পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং গোপন আর্থিক লেনদেনের কারণে পুলিশ ও বাদীর যোগসাজশে তাকে মামলা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্তের নিরপেক্ষতা এবং মামলার বাদীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে গভীর ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এজাহার পরিবর্তনের বিষয়ে মামলার বাদী গণমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, “ঘটনার পর বাদী প্রথমে একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে বাদী নিজেই সেই অভিযোগ ‘আপডেট’ করে নতুন এজাহার দাখিল করেন। বাদীর দেওয়া সংশোধিত এজাহারের ভিত্তিতেই মামলা রুজু করা হয়েছে।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর