মধুমাস জ্যৈষ্ঠের আগমনী বার্তা নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রসালো ও সুমিষ্ট লিচু বাজারে আসতে শুরু করেছে। গাছে গাছে এখন লাল লিচুর সমারোহ। বাগানগুলোতে চাষিদের ব্যস্ততা, পাইকারদের আনাগোনা আর রাত জেগে পাহারার মধ্য দিয়ে পুরো এলাকায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
তবে এবার আবহাওয়া নিয়ে কিছুটা চিন্তিত বাগান মালিকরা। অতিরিক্ত খরা ও অসময়ে বৃষ্টির কারণে লিচুর ফলন অন্যান্য বছরের তুলনায় কিছুটা কম হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক মুকুল ও কড়া লিচু ঝরে পড়েছে, যার ফলে লিচুর আকারও কিছুটা ছোট হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত ফলন ধরে রাখতে বাগানগুলোতে বাড়তি সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়েছে, যার ফলে উৎপাদন খরচ অনেকটা বেড়ে গেছে। এতে অনেক বাগানি লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
সোমবার সোনারগাঁও পৌরসভা, বৈদ্যেরবাজার, আমিনবাজার, সাদিপুর ও মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, লিচু পাড়া ও আঁটি বাঁধার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। বাগান মালিকরা জানান, বাদুড় ও অন্যান্য প্রাণীর হাত থেকে লিচু বাঁচাতে বাগানে বৈদ্যুতিক বাতি ও টিনের তৈরি বিশেষ বাজনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাতে বাগানে পাহারা দেওয়ার কাজও চলছে জোরেশোরে।
বাজারে দামের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় মোগরাপাড়া চৌরাস্তাবাজারে বর্তমানে প্রতি ১০০ লিচু ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাগান থেকেই অধিকাংশ লিচু পাইকারি দরে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। হাড়িয়া গ্রামের ব্যবসায়ী শামসুল হক ও ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন জানান, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলেও সোনারগাঁয়ের লিচুর বিশেষ চাহিদার কারণে বাগান থেকেই পাইকাররা লিচু সংগ্রহ করছেন।
সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ তারেক জানান, এ বছর উপজেলায় ১১০ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২৭২টি লিচু বাগান রয়েছে। আবহাওয়াগত কারণে ফলন কিছুটা কম হলেও আগাম ফলন হওয়ায় কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। আশা করা হচ্ছে, এ বছর সোনারগাঁয়ে প্রায় ৫ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হবে।
ঐতিহাসিক তথ্যমতে, প্রায় ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগিজদের মাধ্যমে সোনারগাঁয়ে লিচু চাষের সূচনা হয়। বর্তমানে এটি এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। সোনারগাঁয়ে মূলত পাতি, কদমি ও বোম্বাই (চায়না-৩) জাতের লিচু চাষ হয়, যার মধ্যে সবার আগে বাজারে আসে ‘পাতি লিচু’। উপজেলার প্রায় ৮৫টি গ্রামে লিচু চাষ হলেও গোয়ালদী, হরিষপুর, পানাম, খাসনগর ও দিঘিরপাড় এলাকায় সবচেয়ে বেশি বাগান রয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments