Image description

আন্তর্জাতিক বাজারে টানা দরপতনের মুখে পড়েছে স্বর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর সুদের হার দ্রুত কমানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আসন্ন বৈঠকের দিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখছে বিশ্ববাজার।

বুধবার (১৩ মে) আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ০.৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬৯৪ দশমিক ৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে ফিউচার মার্কেটে দাম সামান্য বেড়ে ৪ হাজার ৭০২ দশমিক ৪০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনভোর মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ আরও দীর্ঘ সময় সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে। সাধারণত সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের বদলে অন্যান্য সুদযুক্ত খাতের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েন, যা স্বর্ণের দামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। তেলের উচ্চমূল্যের কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি এবং দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার আশঙ্কাই এই দরপতনের মূল কারণ। স্বর্ণের পাশাপাশি রুপা, প্লাটিনাম এবং প্যালাডিয়ামের দামও বিশ্ববাজারে বুধবার কিছুটা কমেছে। রুপার দাম ০.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৮৬.৬১ ডলারে নেমে এসেছে।

দেশের বাজারে বর্তমান দর: বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকলেও দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম এখনো রেকর্ড উচ্চতায় অবস্থান করছে। সবশেষ নির্ধারিত দর অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬৩ হাজার ০৬৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দেশীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ববাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হলে খুব শীঘ্রই দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

মানবকণ্ঠ/আরআই