Image description

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে এক স্কুলছাত্রী (১৪) বীভৎস সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছোট বোনও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের সিন্ধুপ্যাপাড়া এলাকার একটি পাহাড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে রাতেই সাতকানিয়া থানায় সাতজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগীরা স্থানীয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নবম ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে স্কুলে যাওয়ার পর দুই বোন মিলে সিন্ধুপ্যাপাড়া এলাকার পাহাড়ি ও মৎস্য প্রকল্প এলাকায় ঘুরতে যান। এসময় চার-পাঁচজন যুবক তাদের পিছু নেয়। একপর্যায়ে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে বড় বোনকে তারা পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এসময় বাধা দিতে গেলে ছোট বোনকেও তারা হেনস্তা ও শ্লীলতাহানি করে।

ঘটনার পর লোকলজ্জার ভয়ে ছাত্রীরা বিষয়টি গোপন রাখলেও বিকেলে বড় বোন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যদের কাছে সব খুলে বলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে এবং রাতেই চারজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—রাকিব (২০), মানিক ইসলাম (২০), আবদুর রহিম (১৮) এবং ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর। গ্রেফতারকৃতরা স্থানীয় বিভিন্ন মুরগির খামারে শ্রমিকের কাজ করেন বলে জানা গেছে।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, জবানবন্দি গ্রহণের জন্য ভুক্তভোগীদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের শারীরিক ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হবে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশি অভিযানে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতার করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

মানবকণ্ঠ/আরআই