Image description

কালবৈশাখী, তাপপ্রবাহ আর ঘূর্ণিঝড়ের মাস হিসেবে পরিচিত মে মাসে এবার বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা নেই। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি শক্তি হারিয়ে সাগরেই বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ২০ মে’র পর থেকে সারাদেশে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এ বছর আবহাওয়ার আচরণ কিছুটা ভিন্ন। সাধারণত মে মাসে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও এবার চিত্র উল্টো। এপ্রিলে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হওয়ায় মে মাসেও এর রেশ থেকে যাচ্ছে, ফলে বড় ধরনের তাপপ্রবাহের শঙ্কা নেই বললেই চলে।

২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিগত কয়েক বছরে মে মাসে ফণী, আম্ফান, ইয়াস, মোখা ও রেমালের মতো শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছিল। তবে এ বছর দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, লঘুচাপটি শক্তি অর্জন করার বদলে সাগরেই বিলীন হতে পারে, তবে এর প্রভাবে মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এপ্রিলে এবার ৯ দিন মাঝারি থেকে অতিভারী বৃষ্টি হয়েছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জের নিকলি হাওরে একদিনেই ১৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। মে মাসেও এই বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে ২০ মে’র পর থেকে সারাদেশে বজ্রসহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মে মাসে বিশেষ করে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

সাধারণত মে মাসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার থেকে আসা শুষ্ক বাতাসের কারণে চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও ফরিদপুর অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠে যায়। কিন্তু এ বছর পর্যাপ্ত জলীয়বাষ্প ও মেঘের কারণে তাপমাত্রা অনেকটা সহনীয়। এখন পর্যন্ত এ মাসে বড় ধরনের কোনো তাপপ্রবাহ দেখা দেয়নি।

ভারী বৃষ্টির আশঙ্কার কারণে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সোমেশ্বরী, ভোগাই, কংস ও মনু নদীর পানি আগামী কয়েক দিনে আবার বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।