Image description

দীর্ঘ ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো রহস্যের জট খোলেনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যার। তবে দীর্ঘ সময় পর এই হত্যাকাণ্ডে নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় তিন পুরুষের শুক্রাণুর পাশাপাশি এবার আরেকজনের রক্তের অস্তিত্ব পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এর ফলে তনু হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজনের সংখ্যা এখন চারজনে দাঁড়াল। মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইর পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম গত রবিবার রাতে সাংবাদিকদের এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, কয়েক মাস আগে তিনি তনুর পোশাকে পাওয়া নমুনার সর্বশেষ অবস্থা জানতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) একটি চিঠি দেন। প্রায় এক মাস আগে সিআইডি থেকে আসা প্রতিবেদনে জানানো হয়, তনুর পোশাকে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু ছাড়াও আরেকজন ব্যক্তির রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ২০১৭ সালে ডিএনএ পরীক্ষায় তিনজনের নমুনার কথা প্রকাশ করা হলেও, রক্তের এই তথ্যটি এখন সামনে এল।

তরিকুল ইসলাম বলেন, "আগে তিনজনের ডিএনএ প্রোফাইলের কথা বলা হয়েছিল, এখন আরও একজনের রক্তের নমুনা পাওয়ার তথ্য যোগ হলো। এতে আমাদের তদন্তের পরিসর এবং সন্দেহভাজনের সংখ্যা বাড়ল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের পাশের একটি জঙ্গল থেকে তনুর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
শুরুতে থানা পুলিশ ও জেলা ডিবির পর মামলার তদন্তভার পায় সিআইডি। 

তবে সিআইডি দীর্ঘ তদন্তেও কোনো কূলকিনারা করতে না পারায় ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটি পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়। পিবিআই সদর দপ্তরের পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করার পর, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান মো. তরিকুল ইসলাম।